মুম্বই: উপায় ছিল না, তাই পেশা হিসেবে কৃষিকাজকেই বেছে নিতে হয়েছিল তাঁকে। নাহলে যে পেট চালানো মুস্কিল হত। কিন্তু লড়াইটা থেমে থাকেনি। স্বপ্নের পিছনে দৌড়টা কোনোদিন থামতে দেননি তিনি। তাই আজ আইপিএসের তকমা প্রতাপ দিগভকরের ঝুলিতে। দেশের তাবড় অফিসারদের মধ্যে একজন তিনি। তাঁর এই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের কাহিনী হয়ত অনুপ্রাণিত করবে অনেককেই।

আরও পড়ুন: ২০০২! এক গোপন সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে পাক সেনাঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল বাজপেয়ী সরকা

ছোটবেলায় একবার আকাশে একটা প্লেন উড়ে যেতে দেখে তিনি তাঁর মা’কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এগুলো কাদের? মা কিছু না ভেবেই বলে দিয়েছিলেন ‘সরকারের’। সেই স্বপ্ন দেখার শুরু। ওই ‘প্লেনের মালিক’ সরকারের অংশ হতেই হবে। এটা ছিল তাঁর স্বপ্ন।

আরও পড়ুন: ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে পুলিশের শীর্ষপদে! এই মহিলার কাহিনী যেন সিনেমার স্ক্রিপ্ট

১৬ বছর বয়স থেকে মাঠে যেতে হত চাষবাসের কাজে। কিন্তু, থেমে যাননি তিনি। স্বপ্ন সত্যি করতে সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে এসে পড়াশোনা করতেন। দিগভকর জানান, ডিগ্রি পেতে রাতের পর রাত জেগে পড়তেন তিনি। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই স্নাতক ডিগ্রি পান তিনি। এরপর একে একে পাশ করেন পুলিশ সার্ভিস এক্সাম ও কম্বাইন্ড ডিফেন্স এক্সাম। ১৯৮৭-তে মাত্র ২২ বছর বয়সে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদের জন্য বেছে নেওয়া হয় তাঁকে। জীবনে সবথেকে বেশি খুশি হন সেদিন।

১৯৯৩-এর মুম্বই বিস্ফোরণের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। ফাকি আলি নামে এক জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খুঁজে বের করেন তিনি। ওই অফিসার বলেন, ‘জানিনা কি মনে হয়েছিল, শুধু ওই জঙ্গিকে গিয়ে বলেছিলাম, যদি মূক না খোলো তাহলে তোমার গোটা পরিবারকে এনে তাদের চোখের সামনে তোমাকে কষ্ট দেব। ১০ মিনিটে পাল্টে যায় ওই জঙ্গি। এমন একটা জায়গা বলে দেয় যেখান থেকে ৩০,০০০ AK47-এর বুলেট উদ্ধার হয়। পাওয়া যায় বন্দুক, হ্যান্ড গ্রেনেড।’

তাঁর জীবন বলে দেয়, কোনও স্বপ্নকে সত্যি করতে গেলে তার পিছনে লেগে পড়ে থাকতে হয়। এমনভাবে তার পিছনে ছুটতে হয় যাতে সেটা সত্যি না হয়ে যায় না। তাঁর কথায়. ‘আমিই এর জীবন্ত প্রমাণ।’

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।