নয়াদিল্লি: সবকিছুরই একটা ভালো দিক রয়েছে। লকডাউনের জেরে দেশে অপরাধের সংখ্যা কমেছে। এতে মামলার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে এসেছে। এমনই মত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবডের। তিনি বলেন আগে যেখানে প্রতিদিন ২০৫টি করে মামলা দায়ের করা হত, সেখানে মাসে ৩০৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। গোটা এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যান নিয়ে এই বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি।

ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে মামলা দায়ের হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে এরই পাশাপাশি তিনি জানান, মামলার সংখ্যা কমে আসার অর্থ এটা নয় যে সুপ্রিম কোর্ট কাজ করছে না। করোনা পরিস্থিতিতে সদা সতর্ক সুপ্রিম কোর্ট। বছরে ২১০ দিনের স্বাভাবিক নিয়মেই কাজ হচ্ছে শীর্ষ আদালতে।

সোমবার প্রধান বিচারপতি বলেন সরকারের পাশে রয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের প্রতিটি বিভাগকে একজোট হয়ে সমন্বয় সাধন করে কাজ করতে হবে। সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, এই ধরণের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, তবে তা সঠিক নয়। এই সংকটের মুহূর্তে একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল না তুলে কাজ করা উচিত।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে ৫৯৩টি মামলার শুনানি হয়েছে লকডাউনের মাঝেই। রীতিমত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে। গোটা দেশ জুড়ে দ্বিতীয় দফার লকডাউনের মাঝেই সচল রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলার শুনানি চলছে শীর্ষ আদালতে।

জানা গিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট গত ৩৪ দিনে ভিডিও কনফারেন্স করে ৫৯৩টি মামলা শুনেছে। এই ৫৯৩টি মামলার মধ্যে ২০৩টি কানেক্টেড কেস, অর্থাৎ মূল মামলার অনুসারি মামলা। এরই মধ্যে ৪১টি মামলার শুনানিও হয়ে গিয়েছে। ৪১ জন বিচারপতি কাজ করে চলেছেন লকডাউনের মাঝেই। তথ্য বলছে মূল মামলার অনুসারি মামলার হিসেবে ১৭৪টি কেসের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হয়ে গিয়েছে।

২৩শে মার্চ থেকেই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মামলার শুনানি শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গোটা দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণার একদিন আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু হয় শীর্ষ আদালতে। ২৩শে মার্চ এক বিবৃতি জারি করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয় কোর্ট চত্বরে কোনও আইনজীবী বা মামলাকারী প্রবেশ করতে পারবেন না। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলি এবার থেকে লকডাউন চলাকালীন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শোনা হবে।

তখন থেকেই সুপ্রিম কোর্টের ৩৪টি বেঞ্চ কাজ করে চলেছে।এছাড়াও রিভিউ পিটিশনের জন্য ৫৩টি বেঞ্চও বসেছে পৃথকভাবে। ৮৪টি রিভিউ পিটিশনের শুনানি হয়েছে। চূড়ান্ত রায় ঘোষণাও হয়ে গিয়েছে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব