নয়াদিল্লি: বিশ্বে যত নিরীহ প্রাণ রয়েছে তাদের মধ্যে জিরাফের স্থান প্রথম সারিতে। ওরা আলিঙ্গন ভালোবাসে। ভালোবাসে আদর খেতে। বিজ্ঞানীরা এই সুন্দর ও মিশুকে স্বভাবের প্রাণীটিকে নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন। ৫ বছরের তথ্য এক জায়গায় এনে মহিলা জিরাফদের নিয়ে এক নতুন আবিষ্কার করেছেন তাঁরা।

গবেষণায় উঠে এসেছে উত্তর তানজানিয়ায় টারঙ্গির বাস্তুতন্ত্রের প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা জিরাফ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। এটা ওদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত জীববিজ্ঞানী মনিকা বন্ড এ কথা জানিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা এও জানতে পেরেছেন জিরাফের সামাজিক জীবন রয়েছে। তারা অনেক বেশি গোছানো। বন্ড জিরাফের একটি প্রজাতি Giraffa Camelopardalis-এর উপর গবেষণা চালান। পুরুষ জিরাফ তার জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই সঙ্গী খুঁজতে খরচ করে। প্রজননের হেতু তাদের এই অনুসন্ধান। অন্যদিকে মহিলা জিরাফ কিন্তু এদিকে একেবারেই মাথা ঘামায় না। তারা দলবদ্ধ হয়ে থাকতে পছন্দ করে।

বাদুড় বা বেবুনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় ওরা যেমন দলবদ্ধভাবে থাকতে পছন্দ করে মহিলা জিরাফও অনেকটা তাই। বাদুড়রা দল বেঁধে কোনও সেতুর নিচে থাকে। বেবুনরাও একসঙ্গে দলবদ্ধভাবে থাকে। মহিলা জিরাফও একসঙ্গে সবাই মিলে খেতে পছন্দ করে। এরা কিন্তু নিজেদের বা একে অপরকে ছাপিয়ে যেতে পছন্দ করে না। এই দলগুলি সবসময় কাছাকাছি থাকে। তারা একসঙ্গে আনন্দ করে, জল পুনর্গঠন করে। অন্যান্য দলের সদস্যদের সঙ্গে ফিশন-ফিউশন পদ্ধতিতে থাকে। ঠিক যেভাবে ডলফিন তাদের জীবন অতিবাহিত করে। ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় মহিলা জিরাফ নির্দিষ্ট প্রতিবেশি পছন্দ করে এবং বাকিদের এড়িয়ে চলে।

২০০৭ সালে তাঁর আফ্রিকা সফরের সময় বন্ড জিরাফদের নিয়ে গবেষণার কথা ভাবেন। তিনি বলেন, “আমার সবকিছুই ভালো লেগেছিল। কিন্তু জিরাফ ইউনিকর্নের মতো ফ্যান্সি ও রহস্যময় প্রাণী।” তাদের জীবন পর্যবেক্ষণ করতে টারঙ্গির এলাকায় প্রায় ৩ হাজার জিরাফকে নিয়ে গবেষণা শুরু করেন তিনি। গবেষণা চলাকালীন তিনি জানতে পারেন, জিরাফের প্রত্যেকের গায়ের প্রত্যেকের থেকে আলাদা। এগুলি তাদের সারা জীবন অন্যদের থেকে আলাদা রাখে। এও জানা গিয়েছে, জিরাফ বাবলা গাছ বেশি পছন্দ করে। বাওবাব গাছের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে তারা। বন্ড এও দেখেছেন, কী ধরনের গাছ থেকে এরা পছন্দ করে। মানুষের কাছাকাছি তারা কতটা থাকতে পছন্দ করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি এক নতুন আবিষ্কার। ভবিষ্যতে গবেষণার ক্ষেত্রে এই তথ্য কাজে লাগবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.