এগরা: গত কয়েকদিন আগে এগরা যোগে এক বৃদ্ধের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছিল। এরপর স্বাস্থ্য দফরের তৎপরতায় বৃদ্ধের ১৩ জন নিকটাত্মীয়কে স্থানীয় এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই তাদের লালা রস সংগ্রহ করে কলকাতায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ামাত্রই পরিস্থিতি আরও গভীরে গিয়ে দাঁড়ায়। ১৩ জন নিকট আত্মীয়ের মধ্যে ১১জনের করোনা নেগেটিভ ধরা পড়লেও বাকি দুজনের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এগরা সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে পাওয়ার খবর অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা এক মহিলার মধ্যেও করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। সবমিলিয়ে রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮ জন।

ওই বিয়েবাড়িতে পাত্রের বাবার বন্ধুরা এসেছিলেন ইউকে ও সিঙ্গাপুর থেকে। যদিও পাত্রের বাবার দাবি, নয়াবাদের আক্রান্ত ওইসব বন্ধুদের সংস্পর্শে আসেনি। তবে, ঠিক কোথা থেকে ভাইরাস ছড়াল, তা এখনও অস্পষ্ট। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ থেকেও এসেছিলেন অতিথিরা।

শনিবার সন্ধ্যায় এগরা হাসপাতালে থাকা দুই মহিলার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ায় তাদের সঙ্গে সঙ্গে এগরা থেকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এগরায় আতঙ্কের সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার। স্বাস্থ্য দফতর থেকে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার এগরার বিয়ে বাড়িতে আসা নয়াবাদের এক বৃদ্ধের শরীরের মধ্যে নোভেল করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। আর এরপরই গোটা এলাকায় ব্যাপক আকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা এগরায় ওই বিয়েবাড়িতে যোগদানকারী সমস্ত আত্মীয়দের চিহ্নিত করে।

বিয়ে বাড়িতে আমন্ত্রিত ছিলেন প্রায় ৮৫০ অতিথি। সকলকে খুঁজে পাওয়ার জন্য গোটা এলাকা জুড়ে স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে মাইকিং প্রচার চালানো হয়। এরপর এগরার এক সরকারি স্কুলে অতিথিদের নিয়ে বসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। সেখানে যোগদানকারী ৫৭২ জনের মধ্যে কোওন রকম উপসর্গ দেখা না গেলেও তাদের স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। অপরদিকে ওই করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের সংস্পর্শে আসা নিকট ১৩ জন আত্মীয়কে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়।

স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে তাদের লালা রস সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। আর সেই রিপোর্ট আসামাত্রই চক্ষু চড়কগাছ সকলের। ১৩ জন নিকটাত্মীয়ের মধ্যে ১১ জনের করোনা নেগেটিভ ধরা পড়লেও বাকি দুজনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। জানা গেছে আক্রান্ত দুই মহিলার মধ্যে একজন ওই বৃদ্ধের স্ত্রী এবং অপরজন এগরার বাসিন্দারা ওই বৃদ্ধের পিসি।

সবমিলিয়ে বলা চলে এগরা যোগে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩ জন। আর এর ফলে ব্যাপক আকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা জেলাতে। এমনিতেই শনিবার থেকে এগরা শহরের বিভিন্ন সরকারি অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় ভাইরাস মুক্ত করার কাজ চলছিল। এরপর শনিবার সন্ধ্যার খবর এখন তৎপর রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। হোম কোয়ারান্টিনে থাকা অতিথিদের ওপর রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারি।

তারা যাতে কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না বের হতে পারে সেজন্য তাদের বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। তবে এগরা যোগে আক্রান্ত ৩জনের কোনও বিদেশ যাত্রার ইতিহাস না থাকলেও উত্তরবঙ্গে করোনা আক্রান্ত মহিলার ইতিমধ্যে বিদেশ যাত্রার কথা জানা যাচ্ছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের পর উত্তরবঙ্গে এই প্রথম করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেল। আর সবমিলিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য দফতরের পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল১৮।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাই চন্দ্র মন্ডল বলেন, “করোনা আক্রান্ত দুইজনকে বেলেঘাটা পাঠানো হয়েছে। বাকি যে ৫৭২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের আবার সোমবার পরীক্ষা করা হবে। তবে এখনও তাদের কারোর মধ্যে কোনো উপসর্গ পাওয়া যায়নি”।