প্যারিস: পুড়ে যাওয়া নোতর দাম দ্যা প্যারিকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও সুন্দর করে পুনর্নির্মাণ করা হবে৷ আশ্বাস দিলেন ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট এম্যানুয়েল ম্যাক্রন৷

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রন বলেন, ‘‘এই প্রথম নয়৷ ফ্রান্সের ইতিহাস লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হবে নবজাগরণ, বিপ্লব, যুদ্ধ বা মানুষের নানা কার্যকারণে আমাদের প্রাচীন স্থাপত্যের ক্ষতি হয়েছে৷ যেগুলি আমরা পারদর্শীতার সঙ্গে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি৷’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘পুড়ে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়৷ বরং ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ৷’’

দিন দুয়েক আগেই আগুনের ভস্মীভূত ফ্রান্সের রাজধানী শহর প্যারিসের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন গির্জা নোতর দাম দ্যা প্যারি৷ মন খারাপ ধর্মানুরাগীদের৷ পুড়ে ছাই চতুর্দশ শতকের স্থাপত্য৷
শিল্পের শহর প্যারস৷ তার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ওই গির্জা। যেখানে সোমবার আগুন লাগে। তবে ঠিক কী কারণে এত গুরুত্বপূর্ন এলাকা আগুনের কবলে পরল তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। আগুনের তীব্রতার কারণে ভেঙে পরে গির্জার ছাদ।

খুব স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্যরিস তথা সমগ্র ফ্রান্সের প্রশাসন। এই ক্যাথলিক গির্জাটি বর্তমানে প্যারিসের আর্চবিশপ বা মহাবিশপের অধীনে রয়েছে। গির্জাটি প্যারিস শহরের ৪র্থ আরোঁদিসমঁ বা ওয়ার্ডে, সেন নদীতে অবস্থিত ইল দ্য লা সিতে নামক দ্বীপের পূর্ব পাশে অবস্থিত। গির্জাটির পশ্চিমমুখী অংশটির সামনে রয়েছে উন্মুক্ত জঁ-পল চত্বর।

গগনস্পর্শী উচ্চতা ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য নোত্র্‌-দাম গির্জাটি পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এটি প্যারিস নগরী, ফ্রান্স, এমনকি সমগ্র ইউরোপের পর্যটকদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় ক্যাথেড্রাল। প্রতি বছর ২ কোটি লোক এটি দেখতে আসে এবং প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ পর্যটক গির্জার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ গির্জায় প্রবেশের জন্য পর্যটকদের কোনও অর্থ প্রদান করতে হয় না।

দীর্ঘকাল প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবে নোতর দাম গির্জা প্রসিদ্ধ ছিল। ১৮৩১ সালে এটি প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু ভবন ছিল ভিক্তর উগোর উপন্যাস নোতর দাম পারি-তে ভবনটিকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। অভিষেককালে ফ্রান্সের রাজা ও সম্রাটদের এই গির্জাতেই শপথ পড়ানো হত। আধুনিক ফ্রান্সের অনেক রাষ্ট্রপতির যেমন শার্ল দ্য গল, জর্জ পোঁপিদু, ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ প্রমুখের শেষকৃত্য এই গির্জাতেই অনুষ্ঠিত হয়।

বিশপ মোরিস দ্য সুলির উদ্যোগে ১১৭৩ খ্রিস্টাব্দে গির্জাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শতকের মাঝামাঝি ১৩৪৫ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। এ কারণে ভবনটির নির্মাণশৈলী সবজায়গায় অভিন্ন রূপ নয়। তবে প্রধানত এটি গোথিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত একটি ভবন। পরবর্তীতে ১৮৪৪ থেকে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থপতি ভিওলে-ল্য-দুকের অধীনে ক্যাথেড্রালটিকে পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করা হয়। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে আড়ম্বরের সাথে ভবনটির ৮৫০তম জন্মদিন পালন করা হয়।