প্যারিস: চিনের উহান শহর থেকেই ছড়াতে শুরু করে কোভিড ১৯। তার পরে যেন মৃত্যু মিছিল শুরু হয়। কিন্তু চিন দাবি করে, তার করোনা সংক্রমণ যাতে আর না ছড়ায় সেই ব্যাপারটি আয়ত্তে এনে ফেলেছ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাকরন সম্প্রতি দাবি করেছেন, চিন কী ভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করল তা কেউ জানে না। তাই অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করায় আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।

ফিন্যানশিয়াল টাইমসের কাছে সাক্ষাৎকারে ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট বলছেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে চিনের সংখ্যা তুলনা করা ঠিক না। তাঁর কথায়, চিন যেভাবে সংকটকে আজ নিয়ন্ত্রণ করেছে তার আমি সম্মান করি। কিন্তু এতটাও এখনই বলে দেওয়া ঠিক না যে অন্য দেশের থেকে চিন অনেক ভালো করেছে। অনেক কিছুই ঘটে গিয়েছে যা আমরা পরিষ্কার ভাবে জানি না। চিন শীঘ্রই তাদের দেশে করোনা সংক্রমণ কমিয়ে এনেছে। কিন্তু ঠিক কতজন আক্রান্ত হয়েছেন এবং কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গিয়েছে।

এই সপ্তাহেই উহানে মৃতের সংখ্যা আরও যোগ হয়েছে। উহানে এখন মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬৩২-এ। আধিকারিকদের অভিযোগ বহু ভয়ানক ঘটনা ঠিক করে নথিভূক্ত করা হয়নি অথবা চাপাই পড়ে গিয়েছে সম্পূর্ণ ভাবে। ম্যাকরন বলছেন, যে দেশ আসল তথ্য লুকিয়ে রেখেছে তার সঙ্গে কোনও তুলনাই হয় না। দেশে তথ্যগুলি স্বচ্ছ হওয়া উচিত এবং মানুষের জানা উচিত যাতে তারা সরকারের সমালোচনাও করতে পারে। ফ্রান্সে চিনের দূতাবাসের ওয়েবসাইটে একটি বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এর পরে ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রক থেকে চিনের দূতাবাসের অ্যাম্বাসাডরকে তলব করা হয়।

সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক রাজনীতিক (নাম অপ্রকাশিত) দাবি করেছেন, ফ্রান্সের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের বাডি় ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে এবং অনাহারে মারা যাচ্ছেন। এর পরেই ফ্রান্সে এই প্রতিবেদন নিয়ে আলোড়ন শুরু হয়। ফ্রান্স সরকার জানিয়ে দেয় এটি ফেক নিউজ।

অন্যদিকে চিন বলে, তারা ফ্রান্সকে সমালোচনা করতে চায়নি। এটা ভুল বোঝাবুঝি মাত্র। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফ্রান্স কী ভাবে এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ করছে তা নিয়ে কিছু বলেনি চিন। ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কোনও কৃতিত্ব দিচ্ছে না চিনকে। মার্কিন সরকার বলছে ল্যাব থেকে বাদুড় নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। ট্রাম্প বলছেন, যেদিন থেকে ল্যাবরেটরির প্রসঙ্গ এসেছে তখন থেকেই এই বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যদিও চিনের বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন এই ভাইরাস ইউহানের সিফুড মার্কেট থেকেই মানব দেহে ছড়ায়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.