ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: ফান্সের মাটিতে আদৌ কোনও পাকিস্তানি পাইলটকে রাফায়েল বিমান ওড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি৷ পাকিস্তানি পাইলটদের রাফায়েল ওড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে যে খবর রটেছে তা ভুয়ো বলে দাবি করল ফরাসি সরকার। সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি এমনই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ৷ ওই প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জিয়েগলার জানিয়েছেন, কোনও সন্দেহ নেই যে এই খবর ভুয়ো।

এমন বিতর্কিত রিপোর্টটি এআইএন অনলাইন ডট কম নামের একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কাতারের বায়ুসেনার হাতে থাকা রাফায়েল যুদ্ধবিমানের সাহায্যে নিজেদের পাইলটদের এই বিমান ওড়ানো শেখাচ্ছিল পাকিস্তান। যাতে বলা হয়েছিল, ফ্রান্সের মাটিতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে চলেছিল এই প্রশিক্ষণের কাজ। এমন খবরে স্বভাবতই উদ্বেগ বাড়ে ভারতের। কারণ, অত্যাধুনিক রাফায়েল যুদ্ধবিমানকে ভর করেই আকাশযুদ্ধে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের।

পড়ুন: গ্রেফতার উইকিলিকস কর্তা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

এদিকে ভারতের মতোই ফ্রান্সের থেকে রাফায়েল কিনতে চুক্তি করেছিল কাতার। রাফায়েল যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারক দাসোঁ অ্যাভিয়েশনের প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ২০১৫ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে ২৪টি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে কাতার। তারপরে আবার ২০১৭ সালে কাতার আরও ১২টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কিনতে ফের ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি করে। প্রথম দফার চুক্তির অর্থমূল্য ছিল প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। সেই যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ নিতেই কাতার থেকে ফ্রান্সে গিয়েছিল পাইলটদের একটি দল। সেই দলেই ছিলেন পাকিস্তানি পাইলটরা, এমনটাই দাবি করেছিল এআইএন অনলাইন ডট কম।

পড়ুন: ভয়াবহ: ফের হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ফুট-ওভার ব্রিজ

কিন্তু এনডিটিভি-র প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে দাসোঁ অ্যাভিয়েশনের আধিকারিকদের এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরাও জানিয়েছেন, কাতার এয়ার ফোর্সের হয়ে পাকিস্তানি পাইলটরা রাফায়েল ওড়াতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, এমন কোনও খবর তাঁদের কাছে নেই।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই ভারতে আসছে রাফায়েল যুদ্ধবিমান। সেখানে তার আগেই পাকিস্তানি পাইলটরা সেই বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে নিলে তা যে ভারতের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয় তা বলাই বাহুল্য৷ তবে ভারত তাঁর নিজের পছন্দ মাফিক এই রাফায়েল যুদ্ধবিমানে কিছু রদবদল করেই তা কিনতে সম্মত হয়েছে। ফলেই কাতারের কেনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ভারত কেনা রাফায়েল হুবহু এক নয়, তবে তাতে ফারাক থাকলেও এই বিমানের রেডার ব্যবস্থা দুই দেশের ক্ষেত্রেই এক।সেক্ষেত্রে যদি এই রেডার ব্যবস্থা পাকিস্তানের হাতে চলে যায় তাহলে ভারতের রাফায়েল আকাশে উড়লে তার আক্রমণের কৌশলগত তথ্য সহজেই জেনে যাবে পাক সেনা ।

পড়ুন:

তাছা্ড়া বিভিন্ন পাক সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ইসলামাবাদে পাক বায়ুসেনার সদর দফতরে গিয়েছিলেন কাতারের বায়ুসেনা প্রধান। শুধু তাই নয় সেই অনুষ্ঠানের পর পাক বায়ুসেনা প্রধান দাবি করেছিলেন, কাতার সামরিক ক্ষেত্রে পাক বায়ুসেনাকে সব রকমের সাহায্য করতে প্রস্তুত ।