নয়াদিল্লি : ভালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট। বরফে ঢাকা পাহাড়ের মধ্যে একটু একটু করে গড়ে উঠেছে ভবিষত্যের প্রাণভোমরা। সিড ভল্ট, অর্থাৎ শষ্য ভান্ডার। নরওয়ে সরকারের তত্ত্বাবধানে শষ্যভান্ডার গড়ে উঠেছে বরফে ঢাকা পাহাড়ের নীচে।

এই খবর অনেকেই জানেন, তবে বেশিরভাগ মানুষ যেটা জানেন না, তা হল ভারতেরও এরকম একটি শষ্যভান্ডার রয়েছে হিমালয়ের বুকে। বিশ্বে যদি কখনও শষ্যের সংকট দেখা দেয়, যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানব সভ্যতার আসন্ন দিন দেখা দেয়, বা কখনও জলবায়ুর আকস্মিক পরিবর্তনে শেষের সেদিন উপস্থিত হয়, তবে খাবার যোগাবে এই সিড ভল্ট বা শষ্য ভান্ডার।

এই ভল্টে সাধারণ কোনও মানুষ প্রবেশ করতে পারেন না। সব ধরণের শষ্যের বীজ রাখা হয়েছে এখানে। ভারত এখানে তৈরি করেছে নিজস্ব শষ্যভান্ডারের ভবিষ্যত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭৩০০ ফুট উচ্চতায় লাদাখের চ্যাং লাতে তৈরি হয়েছে ভারতের নিজস্ব শষ্য ভান্ডার। ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অফ হাই অলটিটিউড রিসার্চ ও ন্যাশনাল ব্যুরো অফ প্ল্যান্ট জেনেটিক রিসোর্স ২০১০ সালে এই শষ্যভান্ডার গড়ে তুলেছে। এই ভল্টের তত্বাবধানে রয়েছে ডিআরডিও।

বিশ্বের যতগুলি এই ধরণের শষ্যভান্ডার রয়েছে, ভারতের ভল্টটি আকার দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রায় ৫০০০ প্রজাতির শষ্য সংরক্ষিত রয়েছে এখানে। বিভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের ও বিভিন্ন আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা শষ্যের বীজ এখানে মজুত করা হয়েছে।

এগুলির মধ্যে রয়েছে অ্যাপ্রিকট, গাজর, কপি,আলু, টোমাটো, বার্লি, ধান, গম প্রভৃতি। উল্লেখযোগ্য ভাবে এই বীজ ভান্ডার গড়ে তোলার ভাবনা প্রথম আসে পঙ্গপালের হানার পর। বার্লি ক্ষেতের প্রভূত ক্ষতি করেছিল পঙ্গপাল। তারপরেই এই ধরণের ভল্ট গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়। চ্যাং লা পাসে বছরের ৯ মাসই বরফ থাকে। বাকি দিনগুলিতেও বরফ গলে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ফলে বীজ সুরক্ষিত থাকে এখানে। ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অফ হাই অলটিটিউড রিসার্চের রিপোর্ট বলছে যদি তাপমাত্রা ও উচ্চতা একই রাখা হয়, তবে বীজের সুরক্ষিত থাকার মেয়াদ কয়েকশ বছর পর্যন্ত হতে পারে। জানানো হয়েছে পেঁয়াজের বীজ সুরক্ষিত থাকতে পারে ৪১৩ বছর পর্যন্ত, ধানের ১১০০ বছর পর্যন্ত, গমের ১৬০০ বছর পর্যন্ত, বার্লির ২০০০ পর্যন্ত ও মটরের ৯০০০ বছর পর্যন্ত। এক কথায় ভারতের ভবিষ্যত এই ভল্টে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। এই সিড ভল্টকে তাই শেষদিনের সহায় বলেই মনে করেন মানুষ।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV