বিশেষ প্রতিবেদন: কোনও রকম রিলে অনশন নয় অথবা লোক দেখান প্রতীকি অনশন নয়৷স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের সহকর্মী যতীন দাশ একেবারে টানা ৬৩ দিনের অনশন করে মৃত্যু বরণ করেছিলেন।

ব্রিটিশ আমলে প্রতিবাদ স্বরূপ তাঁর এইভাবে মৃত্যুবরণ করার ফলে রাজবন্দীদের উপর অত্যাচার অনেকটা প্রশমিত হয়েছিল বলে শোনা যায়। যতীন্দ্রনাথ দাসের জন্ম কলকাতায় ১৯০৪সালের ২৭ অক্টোবর। তাঁর পিতার নাম বঙ্কিমবিহারী দাস। ১৯২০ সালে ভবানীপুর মিত্র ইন্সটিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কংগ্রেসের সদস্য হয়ে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।

বঙ্গবাসী কলেজের ছাত্র ছিলেন তিনি। ১৯২৩ সনে বিপ্লবী শচীন্দ্রনাথ সান্যাল কলকাতার ভবানিপুরে ঘাঁটি করলে তিনি এই দলে যোগ দেন।১৯২৪ সালে দক্ষিণ কলকাতায় “তরুণ সমিতি” প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই সময় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা জেলে প্রেরিত হন। জেল কর্তৃপক্ষের আচরণের প্রতিবাদে ২৩ দিন অনশন করেন।

পরবর্তীকালে ভগৎ সিংএর সঙ্গে তিনিও লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হন এবং ১৯২৯ সালের ১৪ই জুন তাঁর কলকাতার বাড়ি থেকে লাহোর পুলিশের নির্দেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আসামি হিসেবে লাহোর জেলে প্রেরিত হন। সেখানে রাজবন্দিদের উপর জেল কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের জন্য প্রতিবাদ জানান।

লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার বিচারাধীন বলে গ্রেফতার হলেও পরবর্তী সময়ে জেলের ভেতর রাজনৈতিক বন্দিদের মর্যাদার দাবী তোলেন ৷তাদের মানবিক সুযোগ সুবিধার আন্দোলন তখন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। তাঁরা ১৩ জুলাই থেকে ভগৎসিং ও বটুকেশ্বর দত্তের সমর্থনে অনশন সংগ্রাম আরম্ভ করেন।

যতীন দাস ছাড়া আর কারও অনশন আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ছিল না। ভাবাবেগে চালিত হয়ে অনশন সংগ্রামে যোগ দিতে নিষেধ করা হয়েছিল অন্য সাথীদের।বলা হয়েছিল, রিভলবার পিস্তল নিয়ে লড়াই করাই চেয়ে অনেক বেশি কঠোর এক অনশন সংগ্রামে নামার পথ এটি। কারণ এই পথে অনশন সংগ্রামীকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সেই সময় যতীন দাস বলেছিলেন, সে নিজে অনশন আরম্ভ করলে যতদিন না সরকার দাবী মেনে না নেয়, ততদিন অনশন চালিয়ে যাবেন। এই সময় তাঁকে বহুবার জোর করে খাওয়াবার চেষ্টা করা হয়। ৬৩ দিন অনশনের পর ১৩ই সেপ্টেম্বর জেলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

এই বীর শহিদের মৃতদেহ কলকাতায় আনা হলে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে প্রায় দুলক্ষ মানুষের শোকযাত্রা কেওড়াতলা শ্মশানঘাট পর্যন্ত গিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর সম্মানে কলকাতায় হাজরা অঞ্চলের মেট্রো স্টেশনটির নামকরণ করা হয় যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশন।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা