arefin dipan

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: হিরন্ময় নীরবতা। হয়ত মামলার কারণেই এমন অবস্থান। বিশ্বজোড়া আলোচিত যুক্তিবাদী লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী, ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাতে রক্তাক্ত হওয়া রফিদা আহমেদ বন্যার নীরবতা যেন প্রতিবাদের ইঙ্গিতময় ভাষা।

বুধবার বাংলাদেশের অন্যতম যুক্তিবাদী প্রকাশনী ‘জাগৃতি’ কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার রায় দিল ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আসামী তথা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ৮ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দীপন হত্যার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। খুশি যুক্তিবাদীরা এমনকি গণজাগরণ মঞ্চ। তবে তারা সন্দিহান ছিল রায়দান পিছিয়ে যাবে। সম্প্রতি গণজাগরণ তাদের প্রতিষ্ঠা দিবসে হুঁশিয়ারি দেয় যদি মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায় খুনের রায়দান পিছিয়ে যায়, তাহলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অমর একুশে গ্রন্থমেলার বাইরেই কুপিয়ে খুন করা হয় অভিজিৎ রায় কে। জখম হন তাঁর স্ত্রী রফিদা আহমেদ বন্যা।গোঁড়া ইসলামিক আদর্শে চলা গোষ্ঠী এই খুন সংঘটিত করে। হামলার দায় নেয় আহসারুল্লাহ বাংলা টিম সংগঠন।

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-বাংলাদেশি লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার রায় ঘিরে উৎকণ্ঠার প্রহর পার করছেন বাংলাদেশের যুক্তিবাদীরা। অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল ও রফিদা আহমেদ বন্যা। মামলার তদন্ত নিয়ে আগেই উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। স্বামীর খুন নিয়ে নীরব থাকলেও বাকি মুক্তমনাদের হত্যার বিষয়ে সরব রফিদা বন্যা।

খুন হওয়া বাকি ব্লগাররা বাংলাদেশি হলেও অভিজিৎ ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাঁকে খুনের ঘটনায় মার্কিন সরকার বিবৃতি দিয়েছিল। তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশকে সাহায্য করতে এসেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

ঢাকার অমর একুশে গ্রন্থমেলার বাইরে রাজপথে কুপিয়ে খুন করা হয় অভিজিৎ রায় কে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে রফিদা সেদিন মারাত্মক জখম হন। তাঁর রক্তাক্ত আঙুল কাটা হাত দিয়ে সাহায্যের জন্য ডেকেও কাউকে পাননি। এই ছবি বিশ্ব জুড়ে প্রবল আলোড়ন ফেলে দেয়। বেঁচে যান রফিদা।

বস্তুত পক্ষে ২০১৩-২০১৬ সময়টি বাংলাদেশ জুড়ে যুক্তিবাদীদের খুনের ঘটনা ঘটেই চলে। কখনও ঢাকা, কখনও বিভিন্ন জেলায় পরপর আক্রান্ত হচ্ছিলেন যুক্তিবাদীরা। কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠনগুলি শতাধিক যুক্তিবাদী অধ্যাপকদের তালিকা তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায় এই তালিকা তৈরি করেছিল হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটি বর্তমানে বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করছে।

তবে যুক্তিবাদীদের খুনের পিছনে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, নব্য জেএমবি সংগঠন জড়িত তা বারবার তদন্তে উঠে এসেছে। খুনের হুমকি দেওয়া শুরু হতেই বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, ব্লগে লিখে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন যুক্তিবাদীরা। সেই সঙ্গে চলতে থাকে ধর্মীয় রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে তীব্র কলম।

শুরু হয় বাংলাদেশে যুক্তিবাদী খুনের পর্ব। পরপর খুন করা হয় আহমেদ রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায় ও ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ ও নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় নীলয়কে। মোট ১২ জন মুক্তমনা এখনও পর্যন্ত খুন হয়েছেন। সর্বশেষ আক্রান্ত হন বাংলাদেশের নন্দিত গল্প লেখক ও পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক মহম্মদ জাফর ইকবাল। সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়। তিনি কোনওরকমে রক্ষা পান।

যুক্তিবাদ বনাম ধর্মীয় মৌলবাগের লড়াইয়ে খুন হওয়া যুক্তিবাদীদের তদন্তে বাংলাদেশ সরকার কড়া ভূমিকা নিয়েছে। রফিদা আহমেদ বন্যা সহ নিহত যুক্তিবাদীদের পরিজনেরা তাকিয়ে পরবর্তী রায়ের দিকে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.