ঢাকা:  হামলার পর কেটে গিয়েছে ৬ বছর। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার বাইরে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় মার্কিন-বাংলাদেশি মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়ের। বিশ্ব জোড়া আলোচিত এই মামলার রায় দেবে ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনাল। রায়ে দোষীদের চরম শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড চাইছে সরকারপক্ষ।

সম্প্রতি বাংলাদেশে আরও এক আলোচিত যুক্তিবাদী প্রকাশক জাগৃতি কর্ণধার আরেফিন দীপন কে খুনের মামলায় দোষীদের ফাঁসির সাজা দিয়েছে আদালত। এই মামলায় কট্টরপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ( বর্তমানে আনসার আল ইসলাম) সদস্যরা জড়িত।

অভিজিৎ রায় খুনের তদন্তে উঠে এসেছে সেই আনসারুল্লাহ গোষ্ঠীর নাম। জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশের কট্টরপন্থী সংগঠনটি একের পর এক যুক্তিবাদী মুক্ত চিন্তার লেখক খুনের ঘটনায় জড়িত। নব্য জেএমবি সংগঠনও একাধিক মুক্তমনা খুনে জড়িত। ২০১৩ সাল থেকে অন্তত ১২ জন যুক্তিবাদীকে খুন করা হয়েছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে যুক্তিবাদী খুনের ধারাবাহিকতায় বারবার বিশ্ব আলোড়িত হয়েছে। তবে অভিজিৎ রায় যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন তাই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল ওয়াশিংটন। খুনের তদন্তের জন্য এফবিআই গোয়েন্দা দল ঢাকা এসেছিল।

তবে তদন্তের গতি প্রকৃতি নিয়ে বারবার উষ্মা জানিয়েছেন অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রফিদা আহমেদ বন্যা। তিনি নিজেও জঙ্গিদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: মুক্তমনা আরেফিন দীপন খুনের সাজা ফাঁসি, অভিজিৎ হত্যার রায় নিয়ে উৎকণ্ঠা

যেভাবে অভিজিৎ কে খুন করা হয়:

২০১৫ সালে ঢাকার বইমেলার বাইরে অভিজিৎ রায়কে কট্টরপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী ছুরি দিয়ে কোপানোর সময় বাধা দিয়েছিলেন রফিদা বন্যা। ছুরির আঘাতে তাঁর হাতের আঙুল কেটে ঝুলে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় রফিদা বন্যা সেই হাত তুলে সাহায্য চান। সশস্ত্র জঙ্গিদের সামনে কেউ আসতে সাহস পাননি। এই ছবি বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন ফেলেছিল।

তদন্তে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বাংলাদেশ সেনার বরখাস্ত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া কে। অভিজিৎ রায় সহ বাকি যুক্তিবাদীদের খুনের মামলায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মূল পরিকল্পনাকারী এই জঙ্গি পলাতক। বাকিরা হলো, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ, আকরাম হোসেন ওরফে আবির (পলাতক), আরাফাত রহমান ও শফিউর রহমান ফারাবি।

যুক্তিবাদী অভিজিৎ রায় কে খুনের মামলার রায়দানের দিকে আন্তর্জাতিক মহল। রায়দান পিছিয়ে গেলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছে মুক্তচিন্তা সংগঠন গণজাগরণ মঞ্চ। তাদের দাবি, দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ কে রুখতে সর্বচ্চো শাস্তি দিতে হবে দোষীদের।যদিও আসামী পক্ষের আইনজীবীদের দাবি, খুনের মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ মেলেনি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।