ঢাকা: প্রত্যাশিত রায়। যুক্তিবাদী মার্কিন-বাংলাদেশি লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে খুনের মামলায় দোষী আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ( এখন আনসার আল ইসলাম) পাঁচ জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড দিল বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী আদালত।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার অমর একুশে গ্রন্থমেলার বাইরে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল অভিজিৎ রায়কে। আক্রান্ত স্ত্রী রফিদা বন্যার আঙুল কাটা রক্তাক্ত হাতের আবেদনে আলোড়িত হয়েছিল বিশ্ব।

সেই হামলার পর কেটে গিয়েছে ৬ বছর। রায়ে দোষীদের চরম শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল সরকারপক্ষ। রায় পক্ষে যাওয়ায় খুশি সরকারপক্ষের আইনজীবীরা। তবে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন উচ্চ আদালতে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে আরও এক আলোচিত যুক্তিবাদী প্রকাশক জাগৃতি কর্ণধার আরেফিন দীপন কে খুনের মামলায় দোষীদের ফাঁসির সাজা দিয়েছে আদালত। এই মামলায় কট্টরপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ( বর্তমানে আনসার আল ইসলাম) সদস্যরা জড়িত।

এবিটি জঙ্গিদের জাল পশ্চিমবঙ্গে:

অভিজিৎ রায় খুনের তদন্তে উঠে আসে সেই আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা এবিটি গোষ্ঠীর নাম। এই জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশের কট্টরপন্থী সংগঠনটি একের পর এক যুক্তিবাদী মুক্ত চিন্তার লেখক খুনের ঘটনায় জড়িত। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গেও জাল ছড়িয়েছে। তাদের কয়েকজন জঙ্গি সদস্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের সময় ধরা পড়ে। তদন্তে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গেও মুক্তমনা যুক্তিবাদীদের তারা টার্গেট করেছে।

এবিটি ছাড়াও নব্য জেএমবি সংগঠনও বাংলাদেশে একাধিক মুক্তমনা খুনে জড়িত। ২০১৩ সাল থেকে অন্তত ১২ জন যুক্তিবাদীকে খুন করা হয়েছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে যুক্তিবাদী খুনের ধারাবাহিকতায় বারবার বিশ্ব আলোড়িত হয়েছে। তবে অভিজিৎ রায় যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন তাই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল ওয়াশিংটন। খুনের তদন্তের জন্য এফবিআই গোয়েন্দা দল ঢাকা এসেছিল।

তবে তদন্তের গতি প্রকৃতি নিয়ে বারবার উষ্মা জানিয়েছেন অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রফিদা আহমেদ বন্যা। তিনি নিজেও জঙ্গিদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

যেভাবে অভিজিৎকে খুন করা হয়:

২০১৫ সালে ঢাকার বইমেলার বাইরে অভিজিৎ রায়কে কট্টরপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী ছুরি দিয়ে কোপানোর সময় বাধা দিয়েছিলেন রফিদা বন্যা। ছুরির আঘাতে তাঁর হাতের আঙুল কেটে ঝুলে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় রফিদা বন্যা সেই হাত তুলে সাহায্য চান। সশস্ত্র জঙ্গিদের সামনে কেউ আসতে সাহস পাননি। এই ছবি বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন ফেলেছিল।

তদন্তে দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশ সেনার বরখাস্ত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া। অভিজিৎ রায় সহ বাকি যুক্তিবাদীদের খুনের মামলায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মূল পরিকল্পনাকারী এই জঙ্গি নেতা পলাতক। বাকিরা হলো, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ, আকরাম হোসেন ওরফে আবির (পলাতক), আরাফাত রহমান ও শফিউর রহমান ফারাবি।

যুক্তিবাদী অভিজিৎ রায় খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ে স্বস্তি আন্তর্জাতিক মহলে। বাংলাদেশের মুক্তচিন্তা সংগঠন গণজাগরণ মঞ্চ স্বাগত জানিয়েছে এই রায়কে। তাদের দাবি, দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ কে রুখতে বাকি মুক্তমনাদের খুনের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন ও দোষীদের সর্বচ্চো শাস্তি দিতে হবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.