সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বহরমপুর: আনন্দ ভাগ করে নিলে আরও বাড়ে, ভাগ করে নিলে কমে দুঃখ’। ওনারাও অনেকটা সেরকমই ভেবেছেন। দেখেছেন, বুঝেছেন দুঃস্থ মানুষদেরও ইচ্ছা করে শপিং মলে গিয়ে বাজার করতে। কিন্তু সেই আর্থিক ক্ষমতা কোথায় ? দুঃস্থরা অনেক দুঃখ ভাগ করে নিয়েছে সমাজের সঙ্গে, কিন্তু কমেনি। ওদের দুঃখের ভাগী হতে এগিয়ে এসেছে ‘SHARE’ share happiness and regain empathy নামক সংস্থা। বানিয়ে ফেলেছে বিনা পয়সার বাজার। সেই বাজার থেকে ওরা যখন ইচ্ছা, যেমন ইচ্ছা জামা কাপড় কিনে নিয়ে আসতে পারছে।

কলকাতার রাস্তায় শহরের রাস্তায় স্ট্রিট ফটোগ্রাফারদের লেন্সের মাধ্যমে দুঃস্থ শিশুদের কোনও শপিং সেন্টারের ম্যানিকুইনের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকার বহু ছবি দেখা যায় কিন্ত ওদের স্বপ্ন পূরণে উদ্যোগ নেয় গুটিকয়েক মানুষ। বিশেষ কোনও উৎসব বা অনুষ্ঠানের সময় নতুন জামা কিনে দেওয়, শীতে কাঁথা, বর্ষায় ছাতা এইসব দেওয়া আর কি। কিন্তু সারা বছরের ব্যবস্থা হয় না। সারা বছরের বস্ত্র জোগাড় করা বেশ শক্ত কাজ।

তবে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। সেই ভাবনা নিয়েই গত বছর দুই ধরে দুঃস্থ মানুষদের বস্ত্রের যোগান দিয়ে আসছে ‘SHARE’ নামে সংস্থাটি। কমপক্ষে ১৪টি গ্রামে তারা এই বিনা পয়সার বাজার বসিয়েছেন। এখনও প্রায় ২০হাজার দুঃস্থের হাতে পোশাক পৌঁছে দিতে পেরেছে গ্রাহকদের হাতে। পুনঃব্যবহারযোগ্য পুরোনো পোশাক সংগ্ৰহ করে তারা সাজিয়ে রাখছেন নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায়। সেখান থেকেই গরীব মানুষ তাঁদের পছন্দ মতো জিনিস নিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: কৃষকরত্ন সম্মানে পুরষ্কৃত মহিষাদলের ষাটোর্ধ সুকুমার ভক্তা

সংস্থাটি আপাতত মুর্শিদাবাদ এবং বর্ধমানে এই কাজ করছে। কাজ করবে পুরুলিয়াতেও। সংস্থার অন্যতম সদস্য সৈয়দ তৌফিক বলেন , “আসলে বহরমপুরে আমরা বছর পঁচিশ আগে একটা ক্লাব বানিয়েছিলাম। সেটা ছিল খেলাধুলা কেন্দ্রীক। খেলাধুলার বয়স যাবার পর অল্পকিছু সমাজসেবা গোছের কাজকর্ম শুরু করি। একটা আলাদা পরিচিতিও তৈরি হয়। অন্য ধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাইট স্কুল ইত্যাদি করতে করতে বিনা পয়সার বাজার শুরু করি প্রায় দু বছর আগে। এই কাজটা শুরুর জন্য ‘SHARE’ নাম দিয়ে একটা সহযোগী সংস্থা তৈরি করা হয়।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রথম থেকেই কিছু অন্যরকম করতে চাইছিলাম। তবে অন্যভাবে চেষ্টা করলেও ব্যাপারটা গতনুগতিকই হচ্ছিল। সেই বৃক্ষ রোপন, পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের অর্থনৈতিক সাহায্য, গুণীজন সংবর্ধনার বেশি কিছু করে উঠতে পারছিলাম না। তারপর বছর দুয়েক আগে আমরা ভাবলাম যে যদি দুঃস্থদের সবসময়ের জন্য ফ্রি’য়ের শপিং মল ধরনের কিছু করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই বছর দুয়েক আগে বিনা পয়সার বাজারের ভাবনার শুরু।

 

সৈয়দ তৌফিক বলেন , “এখন অনেক বেশি গুছিয়ে আমরা কাজ করছি।” তাঁদের আবেদন, যে পোশাক কেউ দান করবেন তা যেন ছেঁড়া বা অপরিচ্ছন্ন না হয়। সংস্থা মনে করছে, এতে অবজ্ঞা মিশে থাকে। পোশাক দেওয়ার সময় একটু গুছিয়ে এবং ভালোবেসে দেওয়া হয় সেই আবেদন জানাচ্ছেন সংস্থার বর্তমান জনা ষাটেক সদস্য।