স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ভোটের উত্তাপে থমথমে বারাকপুর৷ অর্জুন সিং দল বদল করতেই পরিস্থিতি অনেকটা ঘোরাল হয়ে ওঠে৷ সম্মুখ সমরে নামে তৃণমূল ও বিজেপি৷ অভিযোগ, পালটা অভিযোগের গুঁতোয় ত্রাহি ত্রাহি রব৷ এই পেক্ষাপটে সপ্তাহের শুরুর দিনের ভোট কমিশনের নজরে চ্যালেঞ্জের বলে মনে করা হচ্ছে৷

সোমবার ভোট উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে। ভোটের আগের দিন থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বারাকপুর। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে পতাকা ছেঁড়া ও সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ এনেছে। নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তপূর্ণ করতে কোমর বেধে নেমেছে প্রশাসনও।

বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে মোট ১৫৬৭ টি পোলিং বুথ রয়েছে। ভোট দাতার সংখ্যা ১৪,২৮,৮৯৭ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ লক্ষ্য ৩৭ হাজার ৭৮ জন। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৬,৯১,৭৮৯ জন। প্রতিটি বুথেই থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুথের বাইরে জারি থাকবে ১৪৪ ধারা। বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রত্যেক থানা পিছু ২ টি করে কুইক রেসপন্স টিম থাকবে। বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের জন্য মাইক্রো আবসার্ভার থাকবে ১১২ জন। সিসি টিভি থাকছে ১৫৭ টি বুথে। ওয়েব কাস্টিং ব্যবস্থা থাকছে ৩০০ টি বুথে। বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে ১০০% বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রহরায় থাকবে।

আরও পড়ুন: অর্জুনের বিরুদ্ধে রিপোর্ট তলব কমিশনের

এদিকে রবিবার টিটাগর থানা এলাকার মোহনপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূল উভয় দলেরই একে অন্যের বিরুদ্ধে পতাকা ব্যানার ছিড়ে দিয়েছে। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য পঙ্কজ বিশ্বাসের অভিযোগ তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অন্যদিকে, বারাকপুর কালিয়া নিবাস এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা অভিযোগ উঠেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধ।

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীকে ‘নজরবন্দি’ করার দাবি মুকুলের

বারকপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শুভ্রকান্তি বন্দোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তিনি যখন বারাকপুর চক্রবর্তী পাড়ায় নিজের বাড়িতে ছিলেন তখন কয়েক জন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাকে বেধরক মারধর করে। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসলে তিন দুষ্কৃতী ধরা পরে যায়। তাদের টিটাগর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতা অহিন্দ্র নাথ বসু বলেন, “এই ঘটনায় কোন বিজেপি কর্মী যুক্ত নয়, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল হতে পারে। এখন বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।”

এদিকে হালিশহর কোনা কলোনি এলাকায় ভাঙচুর করা হয় বিজেপি কর্মীর বাড়ি। এই ঘটনায় আক্রান্ত হন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া হালিশহর পুরসভার মহিলা কাউন্সিলর সুনীতি বিশ্বাস সরকার। এই ঘটনার পর পাল্টা মারধরের ঘটনা ঘটে তৃণমূল কর্মীদের উপরেও। তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।

উভয়পক্ষই এই ঘটনায় বীজপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে । এদিকে দিনভর অশান্তির ঘটনা প্রসঙ্গে অর্জুন সিং বলেন,”তৃণমূল কংগ্রেস হতাশায় ভুগছে, ওদের কোন কাজ নেই তাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে । তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই। ওদের পরাজয় নিশ্চিত।” অর্জুন সিংয়ের কতা প্রেক্ষিতে এদিন রিপোর্টও তলব করে কমিশন৷