স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: এক প্রাক্তন পুলিশ কর্মীর ছেলেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর একদা ঘনিষ্ঠ বর্তমান মালদহ জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ, প্রতিভা সিং ও তার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে।
 
এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহ জেলায়। জেলার তৃণমূল নেতাদের কাছে টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েও, কোনও সুরাহা না মেলায় এবার ওই প্রাক্তন পুলিশকর্মী মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন। এদিকে এই অভিযোগ কার্যত মেনে নিয়েছেন কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী। টাকা ফেরতের দাবিতে পথে নামার কথা ঘোষণা করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও, অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রতিভা সিংহ ও তার আত্মীয়রা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুরাতন মালদহ এলাকার বাসিন্দা অনিল সরকার। বর্তমানে তিনি প্রাক্তন পুলিশকর্মী। অনিল সরকারের অভিযোগ, ২০১৪ সালে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে তাঁর ছেলের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে, তৎকালীন ইংরেজবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর তথা বর্তমান মালদহ জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মধক্ষ্য প্রতিভা সিংহের ভাই প্রণব সিংহ এবং তাঁর স্ত্রী শম্পা কুন্ডু সিংহ তাঁর কাছ থেকে দু লক্ষ টাকা নিয়েছে।
কিন্তু এখনও সেই চাকরি হয়নি। তিনি বারবার তাদের কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। জেলা তৃণমূল নেতাদের কাছে গেলেও কোনও সুরাহা হয়নি। ফলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন। এমনকি, ‘দিদিকে বলো’তেও অভিযোগ জানিয়েছেন।
 
এদিকে, বছর দুয়েক আগে প্রতিভা সিংয়ের ভাই প্রণব সিংহ প্রয়াত হন। এই বিষয়ে, প্রণব সিংহের স্ত্রী শম্পা কুন্ডু বলেন,’আমার স্বামী কিছু করে থাকতে পারে আমি কিছু জানিনা।’
শুধু তাই নয়, বর্তমান মালদহ জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মধক্ষ্য প্রতিভা সিংহও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার ভাই প্রয়াত হয়েছেন এবং ভাইয়ের বউয়ের সঙ্গে আগে থেকেই তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না।
এই বিষয়ে, বিজেপির মালদহ জেলা সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ”প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের চাকরি করে দেওয়ার নাম করে জেলাজুড়ে তৃণমূল নেতারা টাকা তুলেছে। সিংহভাগই চাকরি তারা করে দিতে পারিনি। হয় চাকরি করে দিতে হবে নয়তো টাক ফেরত দিতে হবে। আমরা প্রতারিতদের পাশে আছি প্রয়োজনে আমরা পথে নামবো।”