নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘ ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের পরে অবশেষে মুখ খুললেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ। আশ্বাস দিলেন দেশবাসীর দাবি মতো আয়কর কমানো হবে, বাড়ানো হবে পেনশন। সেই সঙ্গে সরকারি পরিষেবাতেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। কিন্তু তাঁর দাবি, পড়শি দেশগুলোর তুলনায় ফরাসিরা কম কাজ করেন।

সপ্তাহ শেষ হতেই প্যারিসের রাস্তায় ‘হলুদ ঝড়’। গত ছ’মাস ধরে এটাই চেনা ছবি হয়ে গিয়েছিল। মূলত জ্বালানির লাগাম ছাড়া মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে গত বছর নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। ক্রমশ আন্দোলনের চেহারা বদলায়। ফরাসি সমাজে আর্থিক বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। অবশেষে নরম হলেন মাকরঁ। যদিও জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের দাবিমতো কর ছাড় সংক্রান্ত পদক্ষেপ করবে সরকার, তবে দেশবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে।

গত ১৫ এপ্রিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করার কথা ছিল মাকরঁর। কিন্তু নত্রো দাম ক্যাথিড্রালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে মাকরঁর মুখোমুখি হলেন সাংবাদিকদের। ২৫ এপ্রিল তিনি মুখ খুললেন সাংবাদিকদের সামনে।

এক সময়ে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার হিসেবে কাজ করেছেন ৪১ বছরের মাকরঁ। ২০১৭ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। কিন্তু তারপর থেকে বারবারই ‘ধনীদের প্রেসিডেন্ট’ বলে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এদিন তিনি জানান, আয়করে বেশকিছু কাটছাঁট করা হবে। কিছু কিছু সংস্থা নিয়মের ফাঁক গলে আয়কর ছাড় উপভোগ করে। এবার তাদের আটকানো হবে। সেই সঙ্গে সরকারি খরচ কমানো হবে। কিন্তু ফরাসি কর্মীদের দিন প্রতি আরও বেশ কাজ করতে হবে।

মাকরঁ এদিন বলেন, এমনিতেই এই মুহূর্তে বাজেট ঘাটতির সঙ্গে লড়ছে ফ্রান্স। তাতে কর ছাড়ের পরিমাণ ৫০০ কোটি ইউরো ছোঁবে। ‘‘আমাদের আরও কাজ করতে হবে। আগেও বলেছি। পড়শি দেশগুলোর তুলনায় ফ্রান্সের মানুষ অনেক কম কাজ করেন। এ নিয়ে সত্যিই আরও আলোচনা হওয়া দরকার।’’

ছ’মাস ব্যাপী দীর্ঘ আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট জানান, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো আরও সুসংহত করতে তিনি চান সাধারণ মানুষ আরও বেশি করে এগিয়ে আসুন। তাতে সরকার পরিচালনাও অনেক বেশি সহজ হবে।