প্যারিস: ফ্রান্সে দেশজুড়ে ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে ৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি এদিনও বন্ধ রয়েছে৷ পেনশন সংক্রান্ত নিয়মে বদল করার প্রস্তাব এনেছে সরকার। ফলে তার সর্বাত্মক বিরোধিতা করে ধর্মঘটে নেমেছেন ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মীরা ৷ রেলকর্মী, এয়ার-ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার, শিক্ষক এবং বেশিরভাগ সরকারি ক্ষেত্রের কর্মীরা এই ধর্মঘটে সামিল হন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল মাক্রঁর আমলে এটি-ই সম্ভবত সবচেয়ে বড় ধর্মঘট। ওয়াক আউট করার পাশাপাশি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলে ৷ সব উত্তাল ছিল ফ্রান্স।

এই ধর্মঘটের জেরে সেখানকার রেল পরিষেবা কার্যত থমকে যায়। কারণ ৮২ শতাংশ চালকই এই ধর্মঘটে সামিল হন এবং ৯০ শতাংশ ট্রেন বাতিল করা হয়। লন্ডন ও প্যারিসের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী ইউরোস্টার ট্রেনেরও অর্ধেক এদিন বাতিল করা হয়েছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী বেশ কয়েকদিন ধরেই পরিবহণ ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। রাজধানী প্যারিসের যোগাযোগ ব্যবস্থার লাইফ লাইন মেট্রোরেলের ১৬টি লাইনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় ১১টি লাইন-ই।

এই ধর্মঘটের ফলে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে বাইক এবং স্কুটার ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছতে বাধ্য হন তাঁরা। বন্ধ রাখা হয় স্কুলও। এমনকি পুলিশ ইউনিয়নের একাংশের তরফেও হুমকি দেওয়া হয়েছে প্রতীকি প্রতিবাদ জানাতে বন্ধ রাখা হতে পারে পুলিশ স্টেশনও। প্যারিসের যে রাস্তা দিয়ে মিছিল যাচ্ছে সেখানে ভাঙচুর রুখতে দোকানবাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আইফেল টাওয়ার থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় পর্যটকদেরও।

এদিকে , মাক্রঁ প্রশাসনের যুক্তি, সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের একই পেনশন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা সরকারের তরফে আর্থিক দিক থেকে অনেকটাই সাশ্রয়ী।  কিন্তু তা করতে গিয়ে তাঁর প্রশাসন এখন বড় চ্যালেঞ্জর মুখোমুখি৷