প্যারিস: করোনা মোকাবিলায় লকডাউন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল ফ্রান্স। আপাতত দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা বিচার করে ফ্রান্সে আগামী ১১ মে পর্যন্ত লকডাউন জারি রাখার সিদ্ধান্ত ফ্রান্স সরকারের। ইওরোপের একাধিক দেশ লকডাউন শিথিল করার কথা ভাবলেও সেই পথে হাঁটল না ফ্রান্স। ১১ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এম্মানুয়েল মারকন।

করোনার করাল গ্রাসে গোটা বিশ্ব। চিন, ইতালির পর করোনার মারণ থাবায লন্ডভন্ড গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভয়াল করোনার গ্রাসে ফ্রান্সও। সোমবার পর্যন্ত ফ্রান্সে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৭৭৯ জন। ইতিমধ্যেই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফ্রান্সে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ফ্রান্সে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ১৪ হাজার ৯৬৭। প্রায় ২৮ হাজার মানুষ চিকিৎসার পর সুস্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় লকডাউনই একমাত্র পথ বলে মানছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণেই করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে একের পর এক দেশ লকডাউন ঘোষণা করেছে। এদিকে, লকডাউনের জেরে গোটা বিশ্বেরই অর্থনৈতিক পরিকাঠোর বেহাল দশা।

একাধিক দেশ ইতিমধ্যে লকডাউন শিথিল করার কাথা ভাবছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার প্রমাদ গুণছেন। স্পেন-সহ কয়েকটি দেশ অর্থনৈতিক ধস রুখতে লকডাউন কিছুটা শিথিল করেছে।

তবে এখনই লকডাউন শিথিল করার কথা ভাবছে না ফ্রান্স সরকার। মারণ এই ভাইরাসের সঙ্গে মোকাবিলায় বরং আরও কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তু ফ্রান্স। দেশবাসীকে একজোট হয়ে করোনার বিরুদ্ধে ঘরবন্দি থেকে লড়াইয়ের আবেদন প্রেসিডেন্ট এম্মানুয়েল মারকনের।

এমনিতেই ১৭ মার্চ থেকে ফ্রান্সে লকডাউন চলছে। লকডাউন তড়িঘড়ি তুলে নিলে বহু দেশেই ফল মারাত্মক হতে পারে বলে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই কথা মাথায় রেখেই করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে আপাতত ১১ মে পর্যন্ত গোটা ফ্রান্সেই লকডাউন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প