এটিকে মোহনবাগান বনাম এসসি ইস্টবেঙ্গল। আইএসএলের ফিরতি লেগের কলকাতা ডার্বি নিয়ে কলকাতা২৪x৭-র হয়ে কলম ধরলেন আইএসএলের প্রাক্তন তারকা মেহতাব হোসেন। 

সত্যি বলতে ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে যত কম বলা যায় তত ভাল। অন্যদিকে রয় কৃষ্ণাকে নিয়ে যত বলব কম বলা হয়ে যাবে। একার হাতে ও পুরো শেষ করে দিল ইস্টবেঙ্গলকে। একটা গোল, দু’টো অ্যাসিস্ট। অসাধারণ। ডার্বির মত ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে একটা ‘লাকি’ গোলে সমতা ফেরানো। এরপর ম্যাচটা কীভাবে পরিচালনা করতে হবে সেবিষয়ে কোনও ধারণা নেই ইস্টবেঙ্গল দলটার। যে পজিটিভ নোটে ম্যাচটা ধরা দরকার ছিল ঠিক সেভাবেই ম্যাচ শুরু করেছিল এটিকে মোহনবাগান। আপফ্রন্টে একটা বল ধরার লোক ভীষণভাবে দরকার ছিল হাবাসের দলে। মার্সেলিনহো আসার পর সেই অভাবটা পূরণ করেছে। এককথায় যোগ্য দল হিসেবে ইস্টবেঙ্গলকে পুরো ছিটকে দিয়েছে এটিকে মোহনবাগান।

এবার আসা যাক ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্সিভ ল্যাপসের কথায়। প্রথম গোলটা হজম করল একটা লং বলে। ডার্বি ম্যাচে যেখানে রয় কৃষ্ণার মত একজন স্ট্রাইকার রয়েছে বিপক্ষে, সেখানে এমন হাইলাইন ফুটবল মেনে নেওয়া যায় না। সুব্রতকে দেখলাম ওই সময় ছয় গজের বক্সের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমার মনে হয় ওখানে সুব্রত পালের এগিয়ে টপ বক্সের মাথায় আসা উচিৎ ছিল। দল যখন হাইলাইন খেলছে, তিনজন ডিফেন্স উপরে চলে গিয়েছে তখন সুব্রতর মাথায় রাখা উচিৎ ছিল বিষয়টা। এরপর দ্বিতীয় গোলটার ক্ষেত্রে অবশ্যই দায়ী ড্যানি ফক্স। কিন্তু ভুলের শুরুটা হয়েছে সুব্রতর থেকেই। এত তাড়াতাড়ি বল ছাড়াই অর উচিৎ হয়নি। কৃষ্ণা-মনবীররা তখন কাছাকাছিই ছিল। ১-১ ড্র চলছে , কেন আমি তখন ঝুঁকি নেব?

তৃতীয় গোলটার ক্ষেত্রে তো দেখে মনে হল নিঃসন্দেহে সৌরভ দাসের ইনজুরি আছে। গোলটা অসাধারণ করেছে জাভি সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ওই জায়গা থেকে কৃষ্ণাকে তো সেন্টারটা করতেই দেওয়া উচিৎ হয়নি সৌরভের। সবমিলিয়ে চলতি টুর্নামেন্টে বোধহয় সবচেয়ে খারাপ ফুটবলটা এই ডার্বিতেই খেলল ইস্টবেঙ্গল। গোলটা যেটা ইস্টবেঙ্গল করেছে সেটা দুর্ভাগ্য এটিকে-মোহনবাগানের। ধাক্কাধাক্কিতে হেডটা সঠিক কানেক্ট করতে পারেনি তিরি। ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্স তো ভুল করেছেই। আপফ্রন্টেও ইস্টবেঙ্গল কিচ্ছু করতে পারেনি। গোলে শট নেওয়ার পরিসংখ্যানেই সেটা পরিষ্কার।

সবমিলিয়ে ম্যাচের আগে মনে করা হচ্ছিল একটা হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ হতে চলেছে, কিন্তু আদতে দেখা গেল কোনও অংশেই এটিকে-মোহনবাগানের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি ফাওলারের ইস্টবেঙ্গল। ব্রাইটকে তো সারা ম্যাচে নিস্তেজ করে রাখল এটিকে-মোহনবাগান। এক্ষেত্রে যতটা কৃতিত্ব প্রীতম বা ডিফেন্সের প্রাপ্য ঠিক ততটাই প্রাপ্য মনবীরের। আর আজকের পর আমার মনে হয় রবি ফাওলারের নিজে থেকেই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। এত সুযোগ কোনও কোচই পায় না।

উনি যেহেতু একজন লেজেন্ড তাই সরিয়ে দেওয়া হলে বিষয়টা খারাপ দেখায়। তাই আমার মনে হয় নিজে থেকে ফাওলারের সরে যাওয়াটা বেশি ভাল হবে। তবে আর দু’টো ম্যাচ রয়েছে সেটা সম্পূর্ণ করেই যাওয়া উচিৎ। যদি কয়েকটা ম্যাচ আগে ছাড়তেন সেক্ষেত্রে আলাদা ব্যাপার হত। আর আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে নিয়ে যদি বলি তাহলে এটুকুই বলব, কেন তাঁকে ‘চাণক্য’ বলা হয় তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।