তিমির কান্তি পাতি, বাঁকুড়া: যৌথ বন পরিচালনা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নিয়ে চতুর্থ বর্ষ বনবান্ধব উৎসব শুরু হল বাঁকুড়ায়। শনিবার বাঁকুড়া (উত্তর) বনবিভাগের উদ্যোগে বেলিয়াতোড় রেঞ্জ অফিস প্রাঙ্গণে আদিবাসী নৃত্য ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দিয়ে উৎসবের সূচনা হল। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যবনপাল নরেন্দ্র কুমার পাণ্ডে, বিধায়ক শম্পা দরিপা সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

১৯৭১ সালে রাজ্য বনদফতরের তরফে যৌথ বন পরিচালনা ব্যবস্থা শুরু হয়। জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে তৈরি হয় বনসুরক্ষা কমিটি। এর ফলে বিগত বছরগুলিতে রাজ্যে এক দিকে বনাঞ্চল যেমন সহজে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, তেমনি বনাঞ্চল বৃদ্ধিও পেয়েছে। এছাড়াও চোরাপাচারকারীদেরও দাপট অনেকটা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে বলে বনদফতর সূত্রে খবর।

এদিনের অনুষ্ঠানে জেলার বনসুরক্ষা কমিটির হাতে আর্থিক চেক তুলে দেওয়া হয়৷ পাশাপাশি সবুজশ্রী প্রকল্পে মায়েদের হাতে চারা গাছ তুলে দেওয়া, বন সুরক্ষা কমিটি, বন কর্মচারী, সরকারি দফতর, বেসরকারি সংস্থাগুলিকে বন রক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

বনদফতর সূত্রে খবর, এদিন জেলার ১১৫ টি বনসুরক্ষা কমিটিকে মোট ১৮ কোটি টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। যা থেকে তারা এলাকার উন্নয়ন মূলক কাজের পাশাপাশি সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বাড়তি টাকা ভাগ করে নিতে পারবেন। জেলার একটি বন সুরক্ষা কমিটির সদস্য লক্ষ্মীকান্ত পাত্র বলেন, আমাদের এলাকায় বনরক্ষার কাজে আমরা সবাই জড়িত। ইতিমধ্যে আমরা রাজ্য বনদফতর
থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।

রাজ্যের মুখ্য বনপাল নরেন্দ্র কুমার পাণ্ডে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে এই রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে বনবান্ধব উৎসব শুরু হয়েছে। এই উৎসবের মূল লক্ষ্য জনসংযোগ বৃদ্ধি করা। স্থানীয় পঞ্চায়েত, এলাকার মানুষ ও সরকারি বিভিন্ন দফতরগুলি বনরক্ষায় আমাদের
প্রত্যক্ষ সহযোগিতা না করলে এতো বড় জঙ্গল বনকর্মীদের দিয়ে কখনওই একা রক্ষা করতে পারতো না।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর জঙ্গলের কাঠ বিক্রির টাকার ৪০ শতাংশ বনসুরক্ষা কমিটিগুলিকে দেওয়া হয়। আগে যা ২৫ শতাংশ ছিল। এদিন মোট ১৮ কোটি টাকা জেলার ১১৫ টি বনসুরক্ষা কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।