নয়াদিল্লি: অশান্তির জেরে গুলিবিদ্ধ ১৪ বছরের কিশোর। আহতকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে এলাকায় ঢুকতেই পারল না অ্যাম্বুল্যান্স। কার্যত বিনা চিকিৎসায় টানা ৬ ঘণ্টা পড়েই ছিল ওই নাবালক। শেষমেশ ৬ ঘণ্টা পর গুলিবিদ্ধ কিশোরকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। হাসপাতালেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভরতি রয়েছে ওই কিশোর।

নাগরিকত্ব আইনের বিরোধী ও পক্ষের আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে অশান্ত দিল্লি। কদমপুরী এলাকায় সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয় ১৪ বছরের স্থানীয় এক কিশোর। এই কিশোরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনও যোগ ছিল না। শুধুমাত্র সংঘর্ষের মাঝে কোনওভাবে এসে পড়ে ওই কিশোর।

হঠাৎই গুলি ছিটকে লাগে কিশোরের শরীরে। গুলি লাগার পরই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই কিশোর। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলেও ভ্রূক্ষেপ ছিল না আন্দোলনকারী ও আন্দোলনের বিপক্ষে থাকা উন্মত্ত জনতার।
তারই মাঝে চলে ভাঙচুর, আগুন।

এদিকে, দফায়-দফায় আন্দোলন-বিক্ষোভের জেরে একটা সময় কদমপুরী এলাকায় ঢোকার সব পথই হয়ে যায় অবরুদ্ধ। যার জেরে কিশোরকে উদ্ধারে এলাকায় যেতেই পারেনি অ্যাম্বুল্যান্স। গুলি লাগার পর টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনও চিকিৎসাই হয়নি ওই কিশোরের। শেষমেশ ৬ ঘণ্টা পর গুলিবিদ্ধ কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই কিশোর।

রবিবার থেকে শুরু হওয়া গন্ডগোল সোমবারের পর মঙ্গলবারও দিনভর চলে। এদিন সন্ধেয় নতুন করে অশান্ত হয়ে ওঠে দিল্লির চাঁদবাগ এলাকা৷ একদিকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে আন্দোলন ও অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দমন করতে ময়দানে অন্যপক্ষের দাপাদাপি৷

দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়৷ এলাকার একাধিক দোকানে চলে ভাঙচুর, আগুন৷ পরিস্থিতি সামলাতে দিল্লির মৌজপুর, জাফরাবাদ, চাঁদবাগ, কারাওয়াল নগরে কার্ফু জারি প্রশাসনের৷

চাঁদবাগে সিএএ ও এনআরসির প্রতিবাদে পথে নামেন মানুষ৷ অনেককে লোহার রড, লাঠি নিয়েও দাপাদাপি করতে দেখা যায়৷ উল্টোদিকে, আন্দোলন দমনের নামেও কয়েকশো লোক জড়ো হয় এলাকায়৷ মুহূর্তে সংঘর্ষ বেঁধে যায় দু’পক্ষের মধ্যে৷ এরই মধ্যে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও বিক্ষোভ শুরু করে কয়েকজন৷ পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গিয়ে বিক্ষোভ তুলে দেয়৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প