স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হায়দরাবাদ গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোর উল্টো সুর শোনো গেল তাঁরই দলের চার সাংসদের গলায়৷ শতাব্দী রায়, দেব, মিমি ও নুসরত, তৃণমূলের এই চার সাংসদই হায়দরাবাদ পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন৷

শুক্রবার মেয়ো রোডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটা আইন নয়, যে আইনকে আমি নিজের হাতে তুলে নিলাম। আইন এটাই, পুলিশ তার কাজ করবে, আদালতে পেশ করবে। বিচারক বিচারকের কাজ করবেন।’’

এদিন, পুলিশের প্রতি কড়া নির্দেশ দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে দ্রুত চার্জশিট দিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব। তিন থেকে ১০ দিনের মধ্যে। কাগজপত্র জোগাড় করতে হবে। এটা জরুরি অবস্থা হিসেবে দেখতে হবে। যে করবে না, তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে।’’

দলনেত্রী বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার কথা এনকাউন্টারকে সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূলের চার সাংসদ৷ শুক্রবার সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, ‘‘খুব ভাল হয়েছে৷ অনেকে হয়তো বলবেন একজন সাংসদ হয়ে কিভাবে আমি বলছি৷ কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে নারী হিসেবে বলব একদম ঠিক হয়েছে৷ না হলে ওরা আন্ডার ট্রায়াল থাকত, সাত বছর ধরে ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন খেত৷ যে লোকগুলো ওদের সাপোর্ট দিত তারা টাকা রোজগার করত৷ তাই এনকাউন্টার হয়ে খুব ভাল হয়েছে৷’’

তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহান টুইটারে লিখেছেন, ”শেষপর্যন্ত বিচার হল, আইন-বিচার ব্যবস্থার কাউকে না কাউকে তো বিচার পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিতেই হবে। সকলে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। অপরাধীর বেঁচে থাকার অধিকার নেই।”

তৃণমূলের সাংসদ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী লিখেছেন, ”অবশেষে তোমার আত্মা শান্তি পেল। এনকাউন্টারের পর হায়দরাবাদ পুলিশকে নিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের সেলিব্রেশনের একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন মিমি।” হায়দরাবাদ পুলিশকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঘাসফুলের আরও এক সাংসদ দেব ও৷

গত ২৭ নভেম্বর হায়দরাবাদের সামশাবাদ এলাকায় তরুণী চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়। শুক্রবার ভোরে অভিযুক্ত চার জন পালানোর চেষ্টা করলে এনকাউন্টারে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, সে সময় তাঁদের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তেরা। আত্মরক্ষার্থে তাদের গুলি করে মারা হয়। ভোররাতের তেলঙ্গানা এনকাউন্টারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশ জুড়ে শুরু হয়ে যায় প্রশংসার বন্যা। এ দিন পুলিশকে লক্ষ্য করে পুষ্পবৃষ্টি হয়েছে।