স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : দীর্ঘ দিন ধরেই পুলিশের কাছে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ছে। বাস থেকে যাত্রীদের খোয়া যাচ্ছে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন। নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ। তাতেই আসে সাফল্য। মূল পান্ডা সহ ৩ জন পকেটমারকে গ্রেফতার করল মানিকতলা থানার পুলিশ।

লালবাজার সূত্রে খবর, কয়েক সপ্তাহ ধরেই মানিকতলা থানা এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে পকেটমারির ঘটনা ঘটছিল। যাত্রীদের থেকে সন্তর্পণে মোবাইল, মানিব্যাগ হাতিয়ে চলন্ত বাস থেকে নেমে যাচ্ছিল পকেটমারেরা। তাদের পাকড়াও করতে পুজোর মরশুমে যাত্রী সেজে বিভিন্ন বাসে উঠে নজরদারি শুরু করে মানিকতলা থানার বিশেষ টিম।

গত ১৫ অক্টোবর, হাওড়াগামী একটি ভিড় বাসে যাত্রী সেজে দাড়িয়ে ছিল সাদা পোশাকে পুলিশ। তখন এক যাত্রীর পকেট থেকে মোবাইল তুলে নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টায় ছিল এক যুবক। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই বাসে থাকা মানিকতলা থানার পুলিশের বিশেষ টিম।

ধৃত যুবকের নাম পরিতোষ হালদার। সে পার্ক সার্কাস অঞ্চলের কুখ্যাত পকেটমার। পরিতোষকে জেরা করে তার আরেক শাগরেদের হদিশ পান তদন্তকারী অফিসারেরা। নারকেলডাঙার ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় রাহুল শেখ নামে বিখ্যাত পকেটমারকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি চোরাই মোবাইল ফোন।

আরও পড়ুনগ্রেফতার কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংবাদিক সন্ময় বন্দোপাধ্যায়

এবার রাহুলকে জেরা করে এই চক্রের আরও একজন চাঁই-এর খোঁজ পায় পুলিশ। সে বারুইপুরের তালদির বাসিন্দা। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বাপি নস্কর নামে এক পকেটমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকেও একটি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মানিকতলা থানার বিশেষ টিম।

অবশেষে বাপিকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই চক্রের মূল পান্ডার হদিশ পায় পুলিশ। তাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বারুইপুর থানার অন্তর্গত দক্ষিণঘোলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত মূল পাণ্ডার নাম সমীর নস্কর। মানিকতলার পাশাপাশি পকেটমারি রুখতে শহরের অন্যত্রও চলছে বিশেষ নজরদারি।