স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: খোদ বিডিও’র বাংলোতে ঢুকে বিডিও অফিসার এবং তাঁর স্ত্রীকে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে দুঃসাহসিক ডাকাতি করে পালাল দুষ্কৃতীরা। দুঃসাহসিক এই ডাকাতির খবর চাউর হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। হাবড়ার বিডিও শুভ্র নন্দী ও তাঁর স্ত্রীকে বিডিও বাংলোর মধ্যে বেঁধে রেখে ডাকাতির ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এই ঘটনার সাথে জড়িত চার দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল হাবড়া পুলিশ।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাবড়া থানার পুলিশ এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত চার দুষ্কৃতি গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশের জেরায় চার দুষ্কৃতী তাঁদের অপরাধ স্বীকার করেছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, কিছুদিন আগে বিডিও অফিসে গাছ কাটার কাজ করছিল গ্রেফতার হওয়া চার দুষ্কৃতীর মধ্যে থাকা ফারুক আলি সরলা নামে বছর ২৮ বছরের এক যুবক। পরবর্তীতে এই ফারুকের নেতৃত্বে একটি দল ডাকাতি করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

সূত্র মারফত খবর পেয়ে পুলিশ চারজন দুষ্কৃতী মইদুল বিশ্বাস যার বাড়ি অশোকনগরের বিড়া, দ্বিতীয় ফারুক আলি সরলার বাড়ি অশোকনগরের ছোট বামুনিয়া, তৃতীয় দুষ্কৃতি সুদীপ রায়ের বাড়ি অশোকনগরের তরুণ পল্লী ও চতুর্থ দুষ্কৃতী শঙ্কর সাহার বাড়ি যথাক্রমে অশোকনগরের সুভাষপল্লীতে যায়। শনিবার গভীর রাতে নিজেদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ফারুক ছাড়া এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকেই আগে থেকেই কোন না কোন ডাকাতির সাথে যুক্ত এবং এরা জেলও খেটেছে কয়েকবার। এই চার দুষ্কৃতীকে গ্রেফতারের পর ধৃতদের জেরা করছে পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে দুঃসাহসিক এই ডাকাতি ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার হাবড়া এলাকায়। দুষ্কৃতীদের ধরতে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হাবড়া পুলিশ।

জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতই বিডিও অফিস চত্বরে নিজের বাংলোতেই পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন হাবড়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিও শুভ্র নন্দী। তাঁর বাংলোর সামনের গেটে নিরাপত্তারক্ষী থাকায় বাংলোর পিছনের লোহার কোলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে শুক্রবার ভোররাতে চার-পাঁচজনের একটি দুষ্কৃতীদের দল তাঁদের ঘরে ঢুকে পড়ে। তারপরই বিডিও এবং তাঁর স্ত্রীকে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে শুরু হয় অবাধে লুঠপাট।

ঐদিন দুষ্কৃতীদের দলটি ওই বিডিও অফিসার এবং তাঁর স্ত্রীকে বেঁধে রেখে প্রায় একঘণ্টা ধরে লুঠপাট চালায়। দুষ্কৃতীরা বিডিও সাহেবের নিজের চারটে মোবাইল ফোন ও তার স্ত্রীর ২ টি মোবাইল ফোন প্রথমেই কেড়ে নেয়। এরপর বিডিও সাহেবের স্ত্রীর সমস্ত সোনার গয়না, নগদ প্রায় ১৪ হাজার টাকা ও অন্যান্য সম্পত্তি লুঠ করে দুষ্কৃতীরা। বিডিও সাহেব জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে তাঁদের প্রায় লক্ষাধিক টাকার জিনিসপত্র খোয়া গিয়েছে।