স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: পঞ্চায়েত নির্বাচন শেষ৷ তবু রাজ্যের জেলায় জেলায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা অব্যহত। জমির দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে জখম এক বৃদ্ধা সহ চারজন। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মালদহর রতুয়া থানা এলাকার সামসি রতনপুরের ছবি লালপাড়া এলাকায়৷ আহতদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে৷ ঘটনার তদন্তে নেমেছে সমসী ফাঁড়ির পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এক বৃদ্ধার তিন শতক জমি দখলকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ অভিযোগ, বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধাকে লাঠি, রড দিয়ে মারধর করা হয়৷ এমনকি তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোরও চেষ্টা করা হয়৷ বৃদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলাকারীদের হাতে আক্রান্ত হন তাঁর দুই ছেলে ও নাতি। জখম বৃদ্ধার নাম সাবিত্রী মণ্ডল৷ সাবিত্রীদেবী ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের কর্মী৷

বৃদ্ধার ছেলে জানান, ‘‘তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর নেতা টিঙ্কু মণ্ডল, অজয় মণ্ডলরা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের ওই তিন শতক জমি দখলের চেষ্টা করছিলেন৷ প্রতিবাদ জানানোয় এদিন টিঙ্কু মণ্ডলের নেতৃত্ব একদল দুষ্কৃতি আমাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে ওরা আমাদের মারধর করে৷ ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা’কে কুপিয়ে খুন করার চেষ্টা করে।’’

ঘটনায় সাবিত্রীদেবীর পাশাপাশি তাঁর দুই ছেলে চন্দ্রকুমার মণ্ডল, অচিন্ত্য মণ্ডল গুরুতর জখম হন৷ গ্রামবাসীরাই তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। আঘাত গুরুতর থাকায় তাঁদের সেখান থেকে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ যদিও তূণমূলের কার্যকরি সভাপতি দুলাল সরকারের দাবি, ‘‘হামলার ঘটনাটি শুনেছি৷ আমরা ভালো ভাবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি৷ হামলার ঘটনায় দলের যদি কেউ জড়িত থাকে তবে তাঁদের বিরুদ্ধে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’’