সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ওঁরা চারজন। দলের অনেকেই তখন ফিরে গিয়েছে। ওঁরা নামলেন নতুন অভিযানে। ইংরেজরা ঘিরে ফেলেছিল। কিন্তু ওঁরা ইংরেজদের ছুঁতে দিলেন না। নিজেদের একে অপরকে গুলি করলেন। কারন তাঁরা মনে করেছিলেন ইংরেজদের হাতে ধরা দেওয়ার চেয়ে মৃত্যু অনেক সুখের। ওরা রজত সেন, মনোরঞ্জন সেন, দেবপ্রসাদ গুপ্ত, স্বদেশ রায়।

হয়ে গিয়েছে অস্ত্রাগার অভিযান। সবে করেছেন জালালাবাদের যুদ্ধ। এরপর মাস্টারদা দলের বাকি সকলকে নির্দেশ নির্দেশ দেন ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন স্থানে যেন লুকিয়ে পড়তে। কারণ, একসঙ্গে থাকলেই ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। লোকনাথ বলের দলে ছিলেন রজত সেন, দেবপ্রসাদ গুপ্ত, স্বদেশ রায়, মনোরঞ্জন সেন, সহায়রাম দাস, সুবোধ চৌধুরী, ফণীন্দ্র নন্দী, নারায়ণ সেন, রণধীর দাশগুপ্ত, সরোজ কান্তি গুহরা। এক মুসলিমের বাড়িতে ঠাঁই পান। সেখান থেকে এক ব্যক্তির সাহায্যে কাট্টোলি।

এখান থেকে অনেককেই নির্দেশ দেওয়া হয় বাড়ি যাওয়ার। নির্দেশ পালন করলেন অনেকেই। লোকনাথ বল লুকিয়ে না বেরিয়ে কলকাতার যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাকি রইল ৬ জন। রজত, স্বদেশ, মনোরঞ্জন, দেবপ্রসাদ, ফণীন্দ্র আর সুবোধ। এরা ঠিক করেন হাতে বন্দুক কার্তুজ আছে তাই আবার একটি হামলা চালাবেন। লক্ষ্য কর্ণফুলী নদীর ধারের ইউরোপিয়ান ক্লাব। ব্যালেন্টাইন ঘাটের ধারে ছিল ওই।ক্লাব। সেখানে গেরিলা আক্রমণ চালাবেন বলে ঠিক করেন তাঁরা।

পথে পড়লেন সমস্যায়। যেদিকেই যান ঘিরে ফেলে পুলিশ। ৬ মে তাঁরা পৌঁছে যান চট্টগ্রাম। শহর পুলিশে ভরতি। থাকতে যান রজত সেনের বাড়ি। সেখানেও একই সমস্যা। অতএব শিকলবহা গ্রাম। পুলিশও এল। তাদের বার করার জন্য বলে দেওয়া হয় ওই মুসলিম গ্রামে হিন্দুরা ডাকাতি করতে এসেছে।

আক্রমণ করল গ্রামবাসীরা। বাধ্য হয়ে গুলি চালান। কেউ কেউ আহত হন। মানুষকে বলে বোঝানো যায় না। আহত দেবপ্রসাদ গুপ্ত আহত হলেন খুবই। যান কালারপোল ব্রিজের মুখে। এর মাঝে দলছুট হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন ফণীন্দ্র নন্দী।

হেঁটে ব্রিজ পেরোলেন বাকিরা। ব্রিজের মুখে পুলিশ ফাঁড়ি।। রয়েছে। ধরা পড়ে যান সুবোধ চৌধুরী। আর বাকিরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ফের পালালেন। লক্ষ্য জুলদা গ্রাম। মুখে নাকে খাবার গুঁজে ফের পলায়ন। পৌঁছলেন ঘন বাঁশের ঝাড়ে।

পুলিশও কাছাকাছি পৌঁছে গেল। গুলি চলছে নাগাড়ে। দুপক্ষেই। চোঙা নিয়ে পুলিশ আত্মসমর্পণের করতে বলল। এরপরেই ঘটল ভয়ঙ্কর ঘটনা। পরপর কয়েকটা গুলির শব্দ। পুলিশ বুঝতে না পেরে এলোপাথাড়ি আরও কয়েকটা গুলি চালাল।।

সাব-ইন্সপেক্টর হেমচন্দ্র গুপ্ত গুলির শব্দ অনুসরণ করে এগিয়ে যান বাঁশঝাড়ের দিকে। দেখলেন, রজত, স্বদেশ আর মনোরঞ্জনকে। ওরা মৃত। বোঝা গেল ওই গুলি তারা নিজেরাই নিজেকে করেছে।

অল্প প্রাণ শক্তি নিয়ে বেঁচেছিলেন দেবপ্রসাদ। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় সে সামনে উপস্থিত ‘বড় সাহেব লো ম্যানকে কিছু বলতে চায় কী না। চমকে দেওয়া উত্তর। “আমার হাত ভেঙে গেছে, নাহলে আমি তাকে গুলি করতাম।” এইটুকু বলেই দেবপ্রসাদ মারা যান। লোম্যান সেই ইংরেজ পুলিশ যার উপর বিপ্লবীদের প্রচুর রাগ ছিল। ভারতীয়দের উপর অত্যাচার করতেন। বিনয় বাদল দীনেশ এই লোম্যানকেই হত্যা করতে চেয়েছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.