স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: দক্ষিনবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে এসে ঘাটি গেড়ে রমরমিয়ে চলছিলো পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্য লটারির জাল কারবার। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার সাদা পোশাকের পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ল চার জাল কারবারি।

নিখুঁতভাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারির জাল টিকিটকে ব্যবহার করে পুরস্কার তুলে নেওয়ার অভিযোগে গতকাল সকালে জলপাইগুড়ি আসাম মোড় এলাকা থেকে পল্টু সূত্রধর নামে একজন কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে আদালতে তুলে হেফাজতে নিয়ে জেরা করে চক্ষু চড়কগাছ হয় পুলিশের।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যের লটারির রেজাল্ট বের হবার কিছুক্ষনের মধ্যেই তৈরী করা হত জাল টিকিট। এমন নিখুঁত টিকিট যা স্ক্যানেও ধরা পড়ত না। এরপরে একই নম্বরে একাধিক লটারি টিকিট বিভিন্ন গ্যাং মেম্বারদের হাতে তুলে দিয়ে টিকিট কাউন্টারে পৌঁছে দেওয়া হত। এরপর সেই টিকিট ভাঙিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিতো এই জাল কারবারিরা।

জানা গিয়েছে, সোমবার পল্টু সূত্রধর নামে নদীয়া জেলার বাসিন্দা এক যুবককে দশ সিরিজের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারির জাল টিকিট দিয়ে ৯০০০০ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে পাকড়াও পরে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার হাতে তুলে দেয় জলপাইগুড়ি আসাম মোড় এলাকার লটারি বিক্রেতারা।

তাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরা হল, (রাজ রায়, কাচরাপাড়ায়)। (শেখ কুতুব, জামালপুর / বর্ধমান)। (তুষার পাল,কল্যানী / নদিয়া)। সেই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয় একটি আর্টিগা গাড়ি।

তবে চক্রের মূল পান্ডা বর্ধমান জেলার বাসিন্দা শেখ শহিদুল ওরফে রনি সহ আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে সাদা পোশাকের পুলিশ। ধৃত শেখ কুতুব জানায়, তাদের চা পাতার মার্কেটিং এর জন্য গাড়ির ড্রাইভার এর চাকরি দেবার নাম করে আনা হয়। এরপর তাকে গত দু দিন ধরে জলপাইগুড়ি এক হোটেলে রেখে দেয় রনি নামে এক যুবক। তবে রনি তাদের সঙ্গে থাকত না। খালি মাঝেমধ্যে এসে দেখা করে খাবার টাকা দিতো। ফোনে যোগাযোগ রাখতো।

ধৃত রাজ রায় স্বীকার করে, যে সে লটারি টিকিট ভাঙিয়ে ৯০০০০ টাকা তুলেছে। এবং সেই টাকা রনি কে দিয়েছে। তাকে হোটেলে কাজ দেবার নামে গত ৪ দিন আগে জলপাইগুড়ি তে নিয়ে আসে রনি।

বিনয় রায় নামে স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এখন লটারি তে প্রাইজ পেয়েও শান্তি নেই। প্রাইজের লটারি ভাঙাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে অন্য কেউ এসে সেম নং এর টিকিট কাউন্টারে জমা দিয়ে প্রাইজ নিয়ে গেছে।তখন আমাকে গ্রেফতার হতে হবে। পুলিশের উচিত এই চক্রের মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করা।

এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও ইলওয়াড জানান, এরা সবাই দক্ষিনবঙ্গর বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এরাই জাল লটারি কারবারের সঙ্গে জড়িত। এদের হেফাজতে নিয়ে আমরা মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করব।