স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া ও হাওড়া: দুটি জেলায় পৃথক পৃথক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মোট চার জনের৷ একটি বাঁকুড়ায় অপরটি হাওড়ায়৷ ঘটনা দুটিকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়৷

বিয়ের পর প্রথম শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে মারুতি ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল তিন জনের। গুরুতর আহত এক। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার সদর থানা এলাকার কাশিবেদিয়া গ্রামের ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর।

সূত্রের খবর, এদিন সারেঙ্গার ব্রাহ্মণডিহা গ্রাম থেকে একটি মারুতিতে সঞ্জয় পাল, বিজয় পাল, সান্ত্বনা পাল ও মৃত্যুঞ্জয় খান কমলপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। সেই সময় কাশিবেদিয়া গ্রামের কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর পুরুলিয়া দিক থেকে আসা একটি লরি মারুতিটিকে মুখোমুখি ধাক্কা মারে।

এই ঘটনায় গুরুতর আহত চারজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানে চিকিৎসকরা সঞ্জয় পাল, বিজয় পাল ও মৃত্যুঞ্জয় খানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার খবর ব্রাহ্মণডিহা গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

কাশীবেদা এলাকার বাসিন্দা উত্তম মণ্ডল বলেন, রাস্তায় কোন স্পীড ব্রেকার না থাকাতেই বার বার এই দুর্ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে দুর্ঘটনা এড়াতে ওই রাস্তায় ট্রাফিক কর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের পক্ষ থেকে মৃতদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে৷ পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বুধবার গভীর রাতে হাওড়ার কোনা এক্সপ্রেসওয়ের ক্যারি রোডের কাছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল এক মহিলা৷ স্বামী-স্ত্রী স্কুটি নিয়ে কলকাতার দিক থেকে হাওড়ার বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময় পিছন দিক থেকে ছুটে আসা ১৪ চাকার একটি ট্রেলার স্কুটিকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার৷ তার স্বামীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতার নাম পিউ সাহা (২৯)। তার স্বামীর নাম অচিন্ত্য সাহা (৪০)। হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের পাঁতিহাল হাটতলার বাসিন্দা তারা। তাদরে দুজনেরই মাথায় হেলমেট ছিল। ঘটনার পর স্বামী-স্ত্রীকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে আনা হলে পিউ দেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করে। অচিন্ত্য বাবু ভরতি আছেন হাওড়া জেলা হাসপাতালে। এই ঘটনার পর ক্যারি রোডে যান চলাচল কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয়।