‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’: লাভপুরে বোমাবাজিতে মৃত বেড়ে আট

বোলপুর:  বেআইনি বালি খাদানের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্টীর সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের লাভপুর৷ শুক্রবার দুপুর থেকে দফায় দফায় বোমাবাজির ঘটনায় অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে৷ ঘটনায় আরও তিন জন গুরুতর জখম হয়েছেন৷ এলাকায় শাসকদলের গোষ্ঠীসংঘর্ষের অভিযোগে লাভপুরের দাড়কা গ্রামে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সমস্ত ঘটনা অস্বীকার করেছেন বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল৷ গোষ্ঠীসংঘর্ষের অভিযোগ উড়িয়ে সিপিএমের ঘাড়ে দায় চাপিয়েছেন অনুব্রত৷

জানা গিয়েছে, লাভপুরের দাড়কা গ্রামে বেআইনি বালি খাদান দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ চলছিল৷  এলাকায় উত্তেজনা থাকায় গোটা গ্রামে পুলিশও মোতায়েন রাখা হয়েছিল৷ পুলিশের নজর এড়িয়ে গ্রামে অস্ত্র ঢোকানোর কারবারও চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের৷ এদিন দুপুরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়৷ শুরু হয় বোমাবাজি৷ দাড়কা হাইস্কুলের সামনে একের পর এক বোমা পড়তে শুরু করে। আতঙ্কে স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। স্কুলের ভিতরে আশ্রয় নেন শিক্ষক ও পড়ুয়ারা। পরে পুলিশ পৌঁছে স্কুলপড়ুয়াদের উদ্ধার করে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লাভপুর থানার পুলিশ৷ নামানো হয়েছে ব়্যাফ৷ বসানো হয় পুলিশ পিকেট৷

সম্প্রতি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তৃণমূল নেতা আহাদুল শেখ ও সাহেদ শেখের গোষ্ঠীর মধ্যে তুমুল ঝামেলা বাধে৷ সাহেদ শেখের গোষ্ঠী আহাদুলের অনুগামীদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ৷ পরে পুলিশ সাহেদ শেখ সহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে৷ ওই ঘটনার পর আজ, শুক্রবার সাহেদ শেখের অনুগামীরা পাল্টা আহাদুল শেখের গোষ্ঠীর উপর হামলা চালায় বলে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে৷

তবে, এদিনের এই ঘটনার পর তৃণমূলের বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব উড়িয়ে মন্তব্য করেন, ‘‘এখানে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হয়নি৷ যা করেছে সিপিএম৷ সিপিএমের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা৷’’ তৃণমূলের জেলা সভাপতির এহেন মন্তব্যের পর পুলিশের পক্ষ থেকেও সংঘর্ষের অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে৷ পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বোমা বাঁধতে গিয়ে তীব্র বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে আট জনের৷ কিন্তু, পুলিশের এই দাবিকে কেন্দ্র করে নয়া বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, বালি খাদান দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে যখন উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিল, তখন পুলিশের নজর এড়িয়ে কীভাবে গ্রামে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল৷ অশান্তির আশঙ্কায় যখন গ্রামে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন করা ছিল, তখন পুলিশের নাকের ডগায় কিভাবে ঘটে গেল এমন ঘটনা?

যদিও, এবিষয়ে লাভপুর থানা কিম্বা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি৷ এলাকায় বোমাবাজির ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার না হওয়ায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ তবে, উত্তপ্ত দাড়কা গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই গোটা গ্রাম ঘিরে রেখেছে বিশাল বাহিনী৷ এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ৷

দেখুন ভিডিও