স্টাফ রিপোর্টার, বসিরহাট: গত শনিবার ভাঙ্গিপাড়ায় বিজেপির দুই কর্মী খুনে গ্রেফতার চার জন৷ তবে অধরা মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান৷ ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে৷

ধৃত আখের আলি গায়েন, জাবেদ আলি মোল্লা, মইনুদ্দিন মোল্লা, মইউদ্দিন মোল্ল৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চারজনই হাটগাছি অঞ্চলের নলকোড়া শেখপাড়ার এক মাছের ভেড়ির আলায় লুকিয়ে ছিল৷ খবর পেয়ে সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ৷

আরও পড়ুন: চাপ বাড়িয়ে ফের মমতার কাছে রিপোর্ট চাইল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

এক সপ্তাহ আগেই ভোট পরবর্তা সন্ত্রাসে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালির ভাঙ্গিপাড়া৷ তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ এই সংঘর্ষেই নিহত হন প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডল৷ নিহত দু’জনেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের৷

এই হত্যার পিছনে রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান৷ দাবি করে বিজেপি৷ অভিযোগ উড়িয়ে, তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি পালটা পদ্ম শিবিরকে নিশানা করেন৷ বৈঠক শেষে মিছিল বার করেছিল তৃণমূল। বলেন, ‘‘মিছিলে হামলা চালিয়ে তৃণমূল কর্মী কায়ুম মোল্লাকে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়।’’

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীকেই আসতে হবে এনআরএসে, দাবিতে অনড় ডাক্তাররা

গত শনিবার বিকেলে ন্যাজাটে তৃণমূলের বুথ স্তরের দলীয় বৈঠক ছিল। তার পর একটি মিছিল বের হলে দুষ্কৃতীরা তার উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তৃণমূলের৷ মিছিলের পিছনে থাকা তৃণমূল কর্মী কায়ুম মোল্লাকে প্রথমে গুলি করা হয় এবং পরে টেনে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে মারা হয় বলে দাবি রাজ্যের শাসক দলের। এর পরেই পাল্টা প্রতিরোধে নামে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, বৈঠক চলাকালীনই বিজেপি আক্রমণ চালায়। বিজেপির অবশ্য দাবি, তৃণমূলই প্রথম তাদের উপর হামলা চালায়। যার জেরে দলের কর্মীদের মৃত্যু হয়েছে, আরও দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷

গোটা ঘটনায় রাজ্যের হিংসার পরিবেশ ফুটে উঠছে৷ এই দাবি করে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের আর্জি জানানো হয় রাজ্য বিজেপির তরফে৷ গত রবিবার গেরুয়া শিবির নিহত দলীয় কর্মীদের দেহ কলকাতায় আনতে চাইলেই পুলিশি বাঁধায় তা আনা সম্ভব হয়নি৷ বিজেপিকে ভয় পেয়েই রাজ্য সরকার পুলিশকে ব্যবহার করেছে বলে আওয়াজ তোলে বিজেপি৷ রাজ্যের কাছে অ্যাডভাইজারি নোট পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের থেকে৷