স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: অবশেষে রাজ্য নেতৃত্বের কড়া নির্দেশের মুখে পড়ে বাম বয়কট ও জলপাইগুড়ি আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেলেন জেলা ফরওয়ার্ড ব্লক। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি নেতাজী সুভাষ ফাউন্ডেশনে রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নরেন চট্টোপাধ্যায়কে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে জেলা সহ সভাপতি গোবিন্দ রায় বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব তাদের চিঠি দিয়ে আবেদন করেছেন। রাজ্য নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়ে আমরা  সিদ্ধান্ত নিয়েছি ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষে জোট প্রার্থীর হয়েই প্রচারে করবে ফরওয়ার্ড  ব্লক৷ কিন্তু  কী এমন বার্তা এল রাজ্য নেতৃত্ব থেকে যার জন্য প্রার্থী দেওয়া নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলনের অবসান হয়ে গেল কয়েক ঘন্টায়, প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
জলপাইগুড়ি আসনটিতে জোট প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেসের সুখবিলাস বর্মার নাম ঘোষণা হতেই  তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন গোবিন্দ বাবু। তাঁর দাবী ছিল, জলপাইগুড়ি আসনটি বরাবরই ফরওয়ার্ড ব্লকের। জোট প্রার্থী হিসেবে ফরওয়ার্ড ব্লক এই আসনে প্রার্থী দেবে। এই দাবী নিয়ে কলকাতায় রাজ্যের দলীয় কার্যালয়ে সশরীরে হাজির এমনকি একাধিকবার লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছিল জেলা নেতৃত্ব। রাজ্য নেতৃত্ব সেই দাবি তুলে ধরে ছিলেন রাজ্য বাম নেতৃত্বের কাছে। কিন্তু রাজ্য বাম নেতৃত্ব জলপাইগুড়ি আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেন। কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণার পর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে প্রচারে নামেনি ফরয়ার্ড ব্লকের কোন নেতা কর্মী। গত রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে গোবিন্দ বাবু আক্ষেপ করে বলেছিলেন নির্বাচন কর্মসূচী নিয়ে জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে জোটের সিদ্ধান্ত বলতে এখানে কংগ্রেস এবং সিপিএমের সিদ্ধান্তই  চলছে। বামফ্রন্ট এখানে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক। কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনেই ফরয়ার্ড ব্লককে ডাকা হচ্ছেনা। তাই ফরয়ার্ড ব্লক মনে করছে এই জোট কার্যত সিপিএম এবং কংগ্রেসের জোট। যে কারণে বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের ডাকা কোনও কর্মসূচীতেই অংশ নেবে না ফরয়ার্ড ব্লক। পাশপাশি এদিন রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। সরাসরি কিছু না বললেও ঘুরিয়ে আলাদা করে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন গোবিন্দ বাবু। মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জেলা নেতৃত্ব বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তার এই হুমকিতে নড়েচড়ে বসে ফরয়ার্ডব্লকের রাজ্য নেতৃত্ব। মঙ্গলবার সকালেই জলপাইগুড়িতে এসে উপস্থিত হন রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নরেন চট্টোপাধ্যায়। এদিন সকাল থেকে জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি।
এদিনের বৈঠক শেষে নরেন বাবু সাংবাদিকদের বলেন, একই পথে যদি রাজ্যে কংগ্রেস এবং সিপিএম চলে তাহলেই রাজ্য থেকে তৃণমূলকে উৎখাত করা সম্ভব হবে। অপরদিকে গোবিন্দ রায় বলেন রাজ্য নেতৃত্বের প্রতিনিধি হয়ে নরেন বাবু এখানে এসেছেন। তিনি আমাদের বক্তব্য, ক্ষোভ, অভিমান সব শুনে বিষয়টির উপর আলোচনা করেছেন। তার আলোচনায় সহমত পোষণ করে জেলা ফরয়ার্ড ব্লক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী না দিয়ে ফরয়ার্ড ব্লক জোটের সঙ্গে থেকেই নির্বাচনের কাজ করবে।