কলকাতা ২৪x৭: বাইকে সওয়ারি, বা কখনো নিজেই বাইকার। ছিপছিপে ভিক্টর কি জেলার যুবতীদের ক্রাশ! মৃদু হাসি মুখে ফরওয়ার্ড ব্লকের তথা সংযুক্ত মোর্চার হেভিওয়েট প্রার্থী ওসব উড়িয়ে দিয়ে জানান, রাজ্যে সুষ্ঠু বাম আদর্শের সরকার গড়তেই লড়াই চলছে। আলি ইমরান রামজকে ভিক্টর বলেই চেনেন রাজ্যবাসী।

উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়া বিধানসভা থেকে তিনবার জয়ী হয়ে হ্যাট্রিক করেছেন। শুধু চাকুলিয়া থেকেই পরপর দুবার জয়ী। এই কেন্দ্রে তৃতীয়বারে জয়ের জন্য লড়ছেন ভিক্টর। পিতা মহম্মদ রমজান আলি বাম জমানায় তাবড় নেতা ছিলেন। গোয়ালপোখর থেকে চার বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পিতার রেকর্ড স্পর্শ করতে মরিয়া ভিক্টর।

চাকুলিয়া এলাকা ছাড়িয়ে ভিক্টরের সিংহ বিক্রম অন্যান্য বিধানসভায় ছড়িয়েছে। কে বলে টিম পি কে দল ভাঙাতে ওস্তাদ! তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটগুরুর সংস্থা আইপ্যাক ‘অফার দিয়েছিল’। ভিক্টরের বিস্ফোরক বয়ান ছিল, তৃণমূলের তরফে মন্ত্রী হওয়ার দাবি নিয়ে এলেও ফিরিয়ে দিই।

পি কে টিমের অফারের জবাব আর পাঁচজন বাম নেতা, বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রীরা যেমন ফিরিয়ে দিয়েছেন, তেমনই পথ নেন ভিক্টর। কার্যত ক্ষমতাশূন্য বাম নেতাদের কাছে টানতে ব্যর্থ হয় টিম পি কে।

এহেন ভিক্টর এখন উল্টে তৃণমূল শিবিরেই ভাঙন ধরাচ্ছেন রোজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে সেই ছবি। উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়া বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় টিএমসি ছেড়ে দলে দলে ফরওয়ার্ড ব্লকের পতাকা নিয়ে ইনকিলাব জিন্দাবাদ ধ্বনি উঠছে ভিক্টরের নেতৃত্বে। রাজ্যে এই একটি বিধানসভায় তৃণমূল ছেড়ে হুড়মুড়িয়ে বিজেপি নয় বরং বামফ্রন্ট শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লকে যাওয়ার হিড়িক লেগেছে। রীতিমতো সমর্থক ধসের কবলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।

চাকুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্র বাম ঘাঁটি। বলা ভালো বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের দুর্গ। ২০১১ সালের পরিবর্তনের ভোটেও এখান থেকে লাল আবীর মেখে বিধানসভায় গিয়েছিলেন আলি ইমরান রামজ। সব থেকে কনিষ্ঠতম বিধায়ক হন। ২০১৬ সালেও একই ছবি। বিধানসভায় বারবার মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসক তৃণমূলকে যুক্তিপূর্ণ প্রশ্নে জর্জরিত করেছেন ভিক্টর।

ভোট লড়াইয়ে চাকুলিয়া থেকে ভিক্টরের প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের মিনহাজুল আরফিন আজাদ। বিজেপির হয়ে আছেন ডা. সচিন প্রসাদ।

প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের গরম গরম বক্তব্যে নাজেহাল করার দিকে বেশি নজর নেই ভিক্টরের। তাঁর নজর বিরোধী শিবিরে ধস নামানো। প্রচারে সেটাই করে চলেছেন মনোযোগ দিয়ে। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সেই ঐতিহাসিক দলীয় প্রতীক ‘লাল পতাকায় সিংহ চিহ্ন’ ছড়িয়ে দিতে কোনও খামতি নেই যুব বাম নেতার। একটার পর একটা গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ধরে টিএমসি, বিজেপির ভাঙন চলছে ভিক্টরের সিংহ গর্জনে। বাম জমানায় না হলেও, পরপর দুবার চাকুলিয়ার বাম বিধায়কের দাপট এমনিতেই প্রবল। ফল আসছে হাতে নাতে।

ভিক্টর ২০০৯ সালে গোয়ালপোখর থেকে উপনির্বাচনে লড়ে জেতেন ভিক্টর। ২০১১ সালে চাকুলিয়া থেকে জয়ী হচ্ছেন। সেই সূত্রে জয়ের হ্যাট্রিক হয়ে গিয়েছে। কাকা ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা হাফিজ আলম সাইরানি। গোয়ালপোখর কেন্দ্রের বিধায়ক। তিনি বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। পুরো রাজনৈতিক পরিবার। দাপুটে ভিক্টরের সিংহ নাদে প্রতিপক্ষ শিবিরে লেগেছে দোলা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.