সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : করোনার গ্রাসে ত্রস্ত বিশ্ব। এমত অবস্থায় শারদোৎসব কি অক্টোবরেও করা সম্ভব? এমন প্রশ্ন উঠে আসছে। জাঁকজমক তো অনেক দূরের বিষয় , অনেক ক্লাব কর্তা দুর্গা পুজোকে ঘট পুজোয় সারবেন বলে জানাচ্ছেন। কিন্তু সবাই কি তা চাইছেন?

যে পুজোর উপর রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রায় সারা বছরের জীবিকা নির্ভর করে তা একেবারে শূন্যতে নামিয়ে আনা কি ঠিক হবে? সেই প্রশ্ন যেমন উঠছে , তেমন প্রশ্ন উঠছে মানুষের কথা ভেবে নমো নমো করে চালিয়ে নেওয়া যাক। ওঁরা বলছেন ‘হাল ছেড়ো না বন্ধু’। পুজো হবে। জাঁকজমককে এবং সমস্যাকে মাথায় রেখেই। কিন্তু তা বলে লোটা কম্বল গুটিয়ে সমস্যা থেকে সরে গিয়ে নয়। লড়েই হবে পুজো।

ওঁরা ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। শহরের নামীদামী অন্তত ৪০০টি পুজো এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরাই একসঙ্গে লড়ে পুজো করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানাচ্ছেন। ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু জানাচ্ছেন , ‘মারন ব্যাধি করোনা কোভিড ১৯এর থাবায় বিশ্বের মানব সমাজ আজ প্রান সংশয়ে। আমাদের দেশ তথা রাজ্য একই সংকটের সন্মুখীন। এরমধ্যেই বৈশাখের উপস্থিতি। আমাদের জানান দিচ্ছে পুজো আসছে। কারণ এই সময় থেকেই অনেক ক্লাব পুজোর প্রথম হোর্ডিং দিয়ে দেয়।

গত বেশ কয়েক বছরের ট্রেন্ড এটাই। এই বছরে এসব কিছুই হয়নি। কারণ অবশ্যই করোনা। শুনছি অনেকে নাকি পুজো নমো নমো করে সারবেন বলে জানাচ্ছেন। আমরা তার পরিপন্থি নই। কারণ এটার উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক বিশাল আর্থসামাজিক ব্যবস্থা। সেটা পুরো ভেঙে দিলে সেখানে আগাম আবেগ দেখিয়ে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি। তাই আমরা উলটো পথে হাঁটবার কথাই ভাবছি।’

একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘যেখানে মানুষের প্রান বাঁচানোই প্রধান কাজ হয়ে উঠেছে সেই অবস্থায় আমরা পুজো পাগলের দল স্বাদ আর সাধ্যের ফারাকটা অনুভব করছি সর্বত্র। ইতিমধ্যেই বহু জায়গা থেকে আলোচনায় উঠে আসছে এবার শারদীয়া উৎসবের চেহারা টা ঠিক কি হতে চলেছে বা আদৌ কি বিশ্বের অন্যতম সেরা উৎসব বাংলা তথা কলকাতার দুর্গাপুজো আমরা করে উঠতে পারবো যথার্থ উৎসবের সাজে? আমরা কলকাতার পুজো পাগলের দল কিন্তু মোটেই পিছিয়ে আসতে রাজি নই।

আমাদের প্রানাধিক প্রিয় শারদোৎসব উদযাপনের থেকে। আমরা বিশ্বাস করি অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাতে মা দুর্গা যেভাবে মহিষাসুর বধ করে শুভ শক্তির সূচনা করেছিলেন, আজ বিশ্বের সমগ্র মানব সমাজের আকূল প্রার্থনায় মা আবার অশুভ করোনাশুরকে বধ করে সুস্থ, সুন্দর আনন্দ মুখর বিশ্ব উপহার দেবেন আমাদের।’ পুজো পাগলদের আশা, ‘সেই দিন আর দূরে নেই। মায়ের আশির্বাদে আমরা আবার উৎসবের সুপ্রভাতে মিলিত হবো, পূজো হবেই’।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।