গুরুগ্রামঃ অভিযোগ প্রমাণিত ফর্টিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে৷ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত আদ্যা সিং-এর পরিবারের হাতে নিয়ম বহির্ভুত খরচের তুলনায় ১৭০০ শতাংশ অতিরিক্ত বিল ধরানোর অভিযোগ প্রমাণিত হল৷ বিল বেশি দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি বা NPPA। শনিবার তারা জানিয়েছে, একজন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত রোগীর জন্য যত টাকা খরচ হওয়ার কথা, তার ১৭৩৭% বেশি টাকা নিয়েছে গুরুগ্রামের ফর্টিস হাসপাতাল৷ যদিও আদ্যাকে তারপরেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি৷

NPPA তাদের রিপোর্টে বলেছে সিরিঞ্জ, গ্লাভস, টাওয়ালের প্রতি ইউনিটে ৫.৭৭ টাকার বদলে ১০৬ টাকা করে নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে সাত বছরের নাবালিকার মৃত্যুর পরই ফর্টিসের বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওই রোগীর যাবতীয় বিল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় NPPA। তারপরেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসে৷

সংস্থাটি জানাচ্ছে ডোটামিন ২০০ মিলিগ্রামের দাম ২৮.৩৫ টাকা হলেও, নেওয়া হয়েছে ২৮৭ টাকারও বেশি৷ মেরোক্রিট ১ গ্রামের দাম নেওয়া হয়েছে ৬৭০% বেশি হারে৷ ৪০৪ টাকা দামের প্রতি ইউনিট ওই ওষুধের দাম নেওয়া হয়েছে ৩১ হাজার টাকা।
NPPA-র বক্তব্য, কেন্দ্রের ধার্য করা দামের তুলনায় সব ওষুদের দাম বেশি নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ এই অভিযোগে ফর্টিসকে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে NPPA। তবে জবাব মেলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে৷

প্রসঙ্গত, এই ফর্টিস হাসপাতাল ১৫দিনের ডেঙ্গু চিকিত্‍সার জন্য ১৬ লক্ষ টাকার বিল ধরিয়েছিল আদ্যা সিং-এর পরিবারের হাতে। সেপ্টেম্বর মাসে হরিয়ানার ফর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয় সাত বছরের আদ্যা সিং। রক্ত পরীক্ষার পর জানা যায় সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদ্যাকে আইসিইউতে রেখে চিকিত্‍সা শুরু করে। টানা ১৫দিন চিকিত্‍সা চলার পর সে মারা যায়। তার পরই আদ্যার বাবা’র হাতে ১৫ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এই বিল নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। অবিলম্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি হরিয়ানার সরকারকেও তদন্ত করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসে হরিয়ানার সরকার। বিল-বিতর্কে তদন্তের প্রক্রিয়াও শুরু করে দেওয়া হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, চিকিত্‍সার সবচেয়ে সেরা পরিষেবা দিতে গিয়ে ওই পরিমাণ টাকা খরচ করা হয়েছে।