মালদহ: সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধানকে। ধৃতের নাম সুকেশ যাদব। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহর রতুয়া থানা মহানন্দটোলা গ্রামপঞ্চায়েতের শ্যামগোফটোলা এলাকায়। তার বিরুদ্ধে নির্মল বাংলা প্রকল্পের টাকা নয় ছয়ের অভিযোগ উঠেছে৷

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কোনও নেতা যদি কাটমানি নেন, তাহলে বরদাস্ত করবেন না তিনি। যাঁর দিকে অভিযোগের আঙুল উঠবে, তাঁকে রেয়াত করা হবে না। শুধু তাই নয়, তাঁর হুঁশিয়ারি, “কোনও প্রকল্প থেকে কাটমানি খাওয়া চলবে না৷ কেন সরকারি প্রকল্প থেকে ২০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে? বাংলার আবাস প্রকল্প থেকে ২৫ হাজার কাটমানি নিতে হবে? সমব্যথী প্রকল্পের ২ হাজার থেকেও ২০০ টাকা নিতে হবে? এই সব করবেন না৷ যারা নিয়েছেন, ফিরিয়ে দিন৷”

তাঁর এই হুঁশিয়ারির ২৪ ঘন্টা কাটল না। সরকারি টাকা তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তৃণমূল নেতা সুকেশ যাদবকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রধান সুকেশ যাদবকে পুলিশ তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত প্রধান সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তিনি রাজনীতির শিকার হয়েছেন৷ তাকে ব্যক্তিগতভাবে ফাঁসানো হয়েছে৷ প্রধান একা কিছু করতে পারে না৷ এর সঙ্গে যুক্ত আছে গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত আধিকারিক এনএস, এক্সিকিউটিভ, এসটিপি, জিআরএস, ঠিকাদার সহ আরও অনেকে।

জানা গিয়েছে, রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন কংগ্রেসের প্রধান সুকেশ যাদব৷ ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে ১০০ দিন কাজের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় এক কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে৷ রতুয়া-১ ব্লকের তৎকালীন বিডিও অর্জুন পাল ২০১৭ সালে ৬ নভেম্বর রতুয়া থানায় প্রধানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর শুরু হয় তদন্ত। মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত প্রধান তৃণমূলে যোগদান করেন কিন্তু আর শেষ রক্ষা হল না।

অন্যদিকে জেলা তৃণমূলের সভাপতি মৌসম নুর বলেন, মিটিংয়ে ওই প্রধানের সম্বন্ধে আলোচনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে টাকা নয় ছয়ের জন্য একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা একটা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও বার্তা মানুষের কাছে দিতে চাইছি। যারা যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে যাতে কড়া বার্তা যায়। সেই ব্যবস্থা আমরা করা শুরু করেছি। সেটারই একটা প্রভাব এই প্রধানকে গ্রেফতার করা। এইরকম আরও যারা দায়িত্বে রয়েছেন, যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দল কোন দুর্নীতিবাজদের জায়গা দেবে না ক্ষমা করবে না।

জেলার পুলিশ সুপার অলক রাজোরিয়া বলেন, রতুয়া থানার নির্মল বাংলার বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।