বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৭১। সব যুদ্ধেই নিজের অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান ইদ্রিস হাসান লতিফ। গত সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি ছিলেন একমাত্র সেনা অফিসার যাঁকে ভারত ও পাকিস্তানের এয়ার ফোর্সের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলা হয়েছিল। তিনি বেছেছিলেন ভারতকেই। দেশের প্রথম মুসলিম বায়ুসেনা প্রধান ছিলেন তিনি।

৭১-এর যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতকে জয় এনে দেওয়ার অন্যতম হোতা ছিলেন ইনি। ১৯২৩-এ হায়দরাবাদে জন্ম তাঁর। ১৯৪২-এ রয়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সে যোগ দেন তিনি। তিনিই বোধহয় একমাত্র এয়ার ফোর্স অফিসার, যিনি রয়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স, রয়্যাল এয়ার ফোর্স ও ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স, তিন বাহিনীতেই কাজ করেছেন।

অম্বালায় প্রাথমিক ট্রেনিং নেওয়ার পর রয়্যাল এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমিতে যান তিনি। একাধিক বিমানে ট্রেনিং নেন তিনি।

১৯৪৪-এ ভারতে ফিরে আসেন তিনি। বার্মা ক্যাম্পেনে অংশ নেন তিনি। এরপর মাদ্রাসে আসগার খানের কমান্ডে পোস্টিং হয় তাঁর। এই আসগার খান পরে পাকিস্তানের এয়ার ফোর্স চিফ হন।

একজন মুসলিম অফিসার হিসেবে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি কোন দেশে বিমানবাহিনীতে কাজ করতে চান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ধর্ম আর দেশের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই। তাই পাকিস্তান নয়,ভারতকেই বেছে নেন তিনি। এয়ার ফোর্সের ওয়েবসাইটে এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এইভাবে দেশের প্রথম মুসলিম বায়ুসেনা প্রধান হন তিনি।

১৯৫০-এ স্কোয়াড্রন লিডার থেকে কমান্ডিং অফিসার হন। সেই বচরেই ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়াদিল্লির উপর দিয়ে ফ্লাই পাস্টে নেতৃত্ব দেন তিনি।