কোচবিহার: ছিটমহল হস্তান্তরের পরেও ভারতীয় নাগরিক হতে না-পারার আক্ষেপ ছিল অনেক ছিটমহলবাসীর। সেই কারণেই ভারতের নাগরিকত্বের আবেদন জানাচ্ছিলেন তাঁদের অনেকে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২২০টি পরিবারের ৯৯১ জন সদস্য আবেদন করেছিলেন ভারতে আসার। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই ১৯টি পরিবারের ৬৭ জনকে নথিভুক্ত করা হল ভারতের নাগরিক হিসাবে।

ছিটমহলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রথম চিন্তভাবনা শুরু হয় বাংলাদেশ গঠনের সূত্রে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের চুক্তির পর৷ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের ভিতরে ভারতীয় ছিটমহলের সংখ্যা ১৩১টি৷ একইভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে বাংলাদেশের ৯৫টি ছিটমহল রয়েছে৷ দীর্ঘদিন ধরে ভোটার লিস্টে নাম না-থাকায় এদেশের রাজনৈতিক দলগুলিরও কোনও মাথাব্যথা ছিল না প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিটমহলবাসীদের নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংয়ের জমানায় নতুন করে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়৷ ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতালাভের পর ছিটমহল সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তৎপর হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অতঃপর নরেন্দ্র মোদীর আমলে ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ১৬৬টি ছিটমহলের হস্তান্তর হয়েছ। যার মধ্যে ১১১টি ভারতের আর ৫১টি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

কোচবিহারের সাংসদ রেণুকা সিং এবং জেলাশাসক সহ প্রশাসনিক পদাধিকারীদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে স্বাগত জানানো হয় ৬৭ জন ছিটমহলবাসীকে। লোকগান ও নৃত্যের মাধ্যমে সাড়ম্বরে অভ্যর্থনা জানানো হয় ভারতের নাগরিক হিসাবে সদ্য পরিচিতি প্রাপকদের।

সরকারি সূত্রে খবর, দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়ি এলাকায় এই ৬৭ জনের পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ২৬ তারিখ পর্যন্ত চলবে।

 

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ