অভিষেক কোলে: ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকার মতে, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কাছে আইপিএলই হতে চলেছে বিশ্বকাপের যথাযথ প্রস্তুতি মঞ্চ। আবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের ধারণা, আইপিএলই ঠিক করে দেবে বিশ্বকাপে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের চার নম্বর স্থান।

ফরম‍্যাট আলাদা হলেও বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইপিএল যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে, সেটা আলাদা করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দলের ১০-১১ টি জায়গা কার্যত আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে রয়েছে। অবশিষ্ট চার-পাঁচটি জায়গার জন্য পরীক্ষা বেশ কয়েকজন তারকার। সন্দেহ নেই আইপিএলই হতে চলেছে এই চার-পাঁচটি জায়গার জন্য লড়াইয়ে থাকা ক্রিকেটারদের কাছে নিজেদের প্রমাণ করার শেষ সুযোগ।

বিশেষ করে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে চার নম্বর জায়গাটি এখনো অনিশ্চিত। সেক্ষেত্রে আইপিএলে নজর কাড়তে পারলেন জাতীয় নির্বাচকদের গুড বুকে ঢুকে পড়তে পারেন দীনেশ কার্তিকের মতো সীমিত ওভারের ক্রিকেটের কার্যকরী তারকা। বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ান ডে ও টি-২০ ক্রিকেটে বেশ কিছুদিন যাবৎ জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখলেও বিশ্বকাপের ঠিক আগে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ওয়ান ডে দল থেকে বাদ পড়েন কার্তিক। স্বাভাবিকভাবেই আইপিএলকে হাতিয়ার করে দীনেশ জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলে ফেলতে পারেন।

যদিও আইপিএল শুরুর আগে বিশ্বকাপের কথা মাথাতেই রাখছেন না নাইট অধিনায়ক। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর আগে কার্তিক স্পষ্ট জানালেন, বিশ্বকাপের কথা মাথায় না রাখাই ভালো হবে তার জন্য। বরং তিনি চান কেকেআরের হয়ে ভালো পারফর্ম করতে। আইপিএলে নিজের দলের পারফরম‍্যান্সের দিকেই নজর রাখতে চান নাইট অধিনায়ক।

দ্বাদশ আইপিএলে অভিযান শুরুর আগে কার্তিক বলেন, ‘আমার কাছে সব আইপিএলই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এবারের আইপিএল তাই আলাদা কিছু নয়। বিশ্বকাপের কথা যত কম ভাববো, ততোই বোধহয় ভালো। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো কেকেআরের হয়ে ভালো পারফরম‍্যান্স করা। দলের ভালো পারফরম্যান্সই এই মুহূর্তে আমার একমাত্র চাওয়া।’

প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে কার্তিক কেকেআরের বেশ কয়েকটা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। প্রথমত, দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে কার্তিক জানান, ‘নেটের ব্যাটিং অর্ডার দেখে ম্যাচের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে কোনো ধারণা করা উচিত নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করব। সেই মুহূর্তে যাকে ব্যাট করতে পাঠানো সঠিক মনে হবে, আমরা তাই করব।’

দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে কার্তিকের মত, ‘আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হতে হলে অলরাউন্ড বোলিং আক্রমণের প্রয়োজন হয়। শুধু পেস বা শুধু স্পিন বোলিং দিয়ে কাজ চলে না। আসল কথা হলো পেস ও স্পিন উভয় বিভাগকেই নিজেদের কাজটা যথাযথভাবে করতে হবে। একে অপরের পরিপূরক হতে হবে। টুর্ণামেন্টে বিভিন্ন ধরনের পিচে খেলতে হবে আমাদের। কোথাও স্পিনাররা সাহায্য পাবে, আবার কোথাও পেসাররা। তখন এক বিভাগকে অন্য বিভাগের খামতি ঢাকার দায়িত্ব নিতে হবে।’

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই চোটের জন্য কেকেআর দলের তিন পেসারকে হারিয়েছে। চোট-আঘাত প্রসঙ্গে কার্তিক বলেন, ‘নাগারকোটি, শিভম মাভি ও নর্ৎজে যে থাকলে ভালো হতো। তবে এটা এমন একটা বিষয় যার উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। ওদের পরিবর্ত ক্রিকেটার দলে নেওয়া হয়েছে। আশা করি তারা টুর্নামেন্টে ভালো পারফর্ম করবে।’

দলে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে ডিকে বলেন, ‘গতবার এমন অনেক ম্যাচ গিয়েছে, যেখানে একেবারে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেছি আমি। এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তবে যত বেশি ওভার ব্যাট করতে পারব, নিজের স্কিল দেখানোর সুযোগ পাবো।’

প্রতিপক্ষ দলে রশিদ খানের মতো তারকার উপস্থিতি প্রসঙ্গে কার্তিক জানান, ‘রশিদ অসাধারণ বোলার। বিশেষ করে টি-২০’তে ও অনবদ্য। ওকে সামলানোর জন্য বাড়তি প্রচেষ্টা করতে হবে আমাদের। আলাদা গেমপ্ল্যান রয়েছে ওর জন্য। তবে শুধু রশিদ নয়, সানরাইজার্সের বোলিং আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। আমি নিশ্চিত, দুটো ভালো দলের মধ্যে একটা উত্তেজক ম্যাচ হতে চলেছে।’