কলকাতা: করোনা ভাইরাসের জেরে চলছে লকডাউন৷ এই পরিস্থিতিতে কেমন আছে চিড়িয়াখানার পশু-পাখি৷ সেই খোঁজ নিতে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই চলে গেলেন আলিপুর চিড়িয়াখানায়৷

দর্শকশূন্য চিড়িয়াখানায় ঘুরে বেড়ালেন বনমন্ত্রী৷ তার সঙ্গে ছিলেন বন দফতরের আধিকারিকরাও৷ তারা ঘুরে ঘুরে চিড়িয়াখানায় থাকা সব পশু-পাখিদের খোঁজ নিলেন৷ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পশু পাখিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন৷ পশু-পাখিরা ঠিক মতন খাবার পাচ্ছে কিনা, সেই বিষয়ও খোঁজ নেন৷ শুধু ঘুরে দেখাই নয়,বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাতে পশু-পাখিদের খাবার খাওলেন৷

চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,পশু-পাখিদের খাবারের কোনও সমস্যা হবে না৷ আগামী এক মাসের খাবার মজুদ রয়েছে। তবে মুরগির মাংস দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে চিড়িয়াখানায়৷

আলিপুর চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর,করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যাতে চিড়িয়াখানা চত্বরে কোথাও না-ছড়ায়, তার জন্য সমস্ত রকমের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে যে সব গাড়ি ভিতরে ঢুকছে, সেগুলির চাকা গেটেই জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে।

আলিপুর চিড়িয়াখানা কলকাতার একটি প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। ১৮৭৬ সালে এই চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আয়তন ৪৫ একর। এটি অধুনা-মৃত অদ্বৈত নামক একটি অ্যালডাব্রা দৈত্যাকার কচ্চপের আবাসস্থল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিল। মৃত্যুকালে এই কচ্ছপটির বয়স ছিল ২৫০ বছরেরও বেশি।

এখানে কয়েকটি বন্দী প্রজনন প্রকল্প চালু রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল মণিপুর ব্রো-অ্যান্টলার হরিণ প্রজনন প্রকল্প। বিগত কয়েক দশক ধরে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ছোটো খাঁচায় পশুপাখি রাখা ও প্যান্থেরা হাইব্রিড প্রকল্পের জন্য চিড়িয়াখানা সম্প্রদায় ও সংরক্ষণবাদীদের দ্বারা সমালোচিত হচ্ছে।

চিড়িয়াখানায় রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, আফ্রিকান সিংহ, জাগুয়ার, জলহস্তী, ভারতীয় একশৃঙ্গ গণ্ডার, রেটিকুলেটেড জিরাফ, গ্র্যান্ট’স জেব্রা, এমু, ড্রোমেডারি ক্যামেল ও ভারতীয় হাতি। আগে প্যান্থেরা হাইব্রিড ও জায়ান্ট এল্যান্ডও ছিল। এগুলিই চিড়িয়াখানার জনপ্রিয় জন্তুজানোয়ার।

এছাড়া চিড়িয়াখানায় প্রচুর আকর্ষণীয় পাখি রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় থাকা ম্যাকাও প্রজাতির বৃহদাকার তোতা, কনুর, লোরি ও লোরিকিট রয়েছে। আর রয়েছে টৌরাকো ও ধনেশ, সোনালি মথুরা, লেডি আমহার্স্ট’স পেজেন্ট ও সোয়াইনহো’স পেজেন্ট। কয়েকটি এমু, ক্যাসাওয়ারি ও অস্ট্রিচও রয়েছে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।