জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার: সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন ও আফ্রিকার কঙ্গো অরণ্যের দাবানলের ঘটনায় আলোড়িত হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহল। বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসে বিশ্বের দুই ফুসফুস কে পুড়িয়ে দিতে কৃত্রিমভাবে আগুন ধরানো হয়।

অনেকটা সেরকমই কাজ ভারতে করে জঙ্গল মাফিয়ারা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বনভূমিতে শীতকালে জঙ্গল পুড়িয়ে মূল্যবান কাঠ সংগ্রহ করার এই চেষ্টা রুখতে তৎপর রাজ্য সরকার। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন বনভূমি রক্ষায় একই উদ্যোগ নেওয়া নিচ্ছে বনবিভাগ।

দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে মিশে থাকা হিমালয়ের বনভূমি ও ডুয়ার্সের জঙ্গল বাঁচানোর জন্য় নিয়োগ করা হবে গোয়েন্দাদের। জঙ্গল মাফিয়াদের উপর তারা নজর রাখবেন। দক্ষিণের দিকে ঝাড়গ্রাম, প. মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার বনাঞ্চলেও কাজ করবেন জঙ্গলের গোয়েন্দারা।

জঙ্গলের কোথাও আগুন ধরানো হলে প্রাথমিক চেষ্টায় তা নিভিয়ে দিতে হবে। এমনই পদক্ষেপ নিতে চলেছে বন দফতর। বলা হয়েছে, শীতের মরসুমে বিভিন্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে দুষ্কৃতিরা যে কৃত্রিম দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি করে তা রুখতেই এই জঙ্গল গোয়েন্দারা সতর্ক থাকবেন।

এই কাজে বনাঞ্চল সংলগ্ন স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিয়োগ করা হবে। বন দফতরের অধীনে তারা অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করবেন। এই কাজের জন্য় মোট এক হাজার জনকে বাছাই করা হয়েছে। তাদের খাতায় কলমে নাম হবে ফরেস্ট ওয়াচার।

জঙ্গল মাফিয়ারা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন বনভূমি থেকে বন্য প্রাণী সংগ্রহ করে। শীতের সময় এমনিতেই জঙ্গলে শুকনো পাতা বেশি থাকে। তাতে আগুন ধরিয়ে দিলেই হু হু করে সেই আগুন ছড়ায়।

সেই আগুনের তাপ থেকে বাঁচতে বন্য প্রানীরা পালাতে গিয়ে চোরা শিরারীদের ফাঁদে পড়ে। অসহায় বন্য প্রাণীদের পরে চালান করা হয় চোরাবাজারে-বিদেশে। বন দফতর জানিয়েছে, পুলিশ যেমন অপরাধী ধরতে গোয়েন্দা নিয়োগ করে, তেমনই জঙ্গল মাফিয়াদের কার্যকলাপ রুখতে এই ফরেস্ট ওয়াচাররা কাজ করবেন।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা