সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: সময়ের ‘গেরো’তেই মারা পরেছে বাঘ। বাঘ-পর্বের আদ্যোপান্ত শুধু সময় চেয়ে গিয়েছে বন দফতর। বাঘের মৃত্যুর পর ফরেন্সিক রিপোর্ট থেকে শুরু করে দোষীকে পাকড়াও করা, এখনও আরও কিছুটা সময় চাইছে বন দফতর। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তদন্তের এই প্রক্রিয়া নিয়েও।

জঙ্গলমহলে গত দুই মাসে কখনও বাড়ির দাওয়ায় কখনও জঙ্গলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাঘের ‘সাক্ষাৎ’ হয়েছে। তবু বন দফতরের কর্মীদের ধরা হয়ে ওঠেনি বাঘ। একের পর এক যুক্তি খাঁড়া করে তাঁরা বার বার ‘সময় লাগবে’, এমন দাবি করে গিয়েছেন। বাঘঘোরার জঙ্গলে বাঘ ‘খুন’ হওয়ার পর, তার দেহ সৎকার হয়ে গিয়েছে শুক্রবার রাতেই। এর পরে অন্তত অপরাধীদের চটজলদি ধরার আশা করছেন বাঘ বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু বন দফতরের সেই একই সাফাই, ‘সময় লাগবে’। মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা বলেন, “ময়না তদন্ত হয়ে গিয়েছে। মাথায়, গলায় আঘাতেই বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এ বার ফরেন্সিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।” ফরেন্সিক রিপোর্টে কত সময় লাগবে? রবিকান্ত সিনহা বলেন, “১০-১২ দিন সময় লাগবেই।”

ফরেন্সিক রিপোর্টও যে তাড়াতাড়ি হাতে আসছে না, তা মুখ্য বনপালের বক্তব্যেই কার্যত পরিষ্কার। প্রশ্ন উঠছে, বাঘ ‘খুনে’র অপরাধীদের চটজলদি ধরা পড়ার বিষয়েও৷ মেদিনীপুরের বিভাগীয় বনকর্তা রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “যারা এই কাজ করেছে তাদের কঠোর শাস্তি হবে।”

কিন্তু কত দিনের মধ্যে অপরাধীরা ধরা পড়বে? রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “বাবলু হাসদাঁ ও বাদল হাসদাঁ, এদেরকে আমরা প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ করছি। কিন্তু এখনই বলে দেওয়া উচিৎ হবে না যে ওরাই এই ঘটনার জন্য দায়ী। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সময় লাগবে। অপরাধীরা ধরা পড়বেই।”

কালের গহ্বরে ‘হারিয়ে’ গেল বাঘ। বন দফতরের কর্তা থেকে শুরু করে বাঘ বিশেষজ্ঞ, গত দুই মাস ধরে সবাই সময় চেয়ে গিয়েছেন৷ বন দফতরের কাজ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে৷