স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা ও আলিপুরদুয়ার: এতদিন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না লালগড়ের জঙ্গলের বাঘকে৷ যদিও বা পাওয়া গেল, তাও মৃত অবস্থায়৷ বন দফতরের ক্যামেরায় বাঘের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর থেকে লালগড়ের জঙ্গলে বাঘ নিয়ে যে রহস্য তৈরি হয়েছিল, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যুর পর সেই রহস্য আরও বাড়ল৷

আর সেই রহস্যের উৎস সন্ধান করতে গেলে খুঁজতে হবে একাধিক প্রশ্নের উত্তর৷ যা ভাবাচ্ছে সাধারণ পশুপ্রেমী থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের৷ কারণ, শুধু বল্লমের খোঁচায় কীভাবে বাঘ মারা হল, তা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লালগড়ের জঙ্গলে বাঘ আগে কখনও দেখা যায়নি৷ ফলে ওই এলাকায় এবার বাঘের আতঙ্কের মাত্রা ছিল আগের থেকে অনেক বেশি৷ ফলে বাঘের আক্রমণের পাল্টা দিতে গিয়ে আদিবাসীদের হাতে বাঘের মৃত্যুর তত্ত্ব খাটছে না বলেই মনে করছেন ওই বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের মতে, যে বাঘ বন্য শুকর তাড়া করে ধরে খেতে পারে৷ তার মানুষকে আক্রমণ করার ক্ষমতা হল না?

সেই কারণেই ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির এআইজি বৈভব চন্দ্র মাথুর এই ঘটনাকে বিক্ষিপ্ত ঘটনা বলে মানতে নারাজ৷ তাঁর কথায়, ‘‘লালগড়ের ঘটনাটিকে কোন ভাবেই একটি বিক্ষিপ্ত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছি না আমরা।মারাত্মক কোন গাফিলতি প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।আর তা যদি বাস্তবে হয়ে থাকে তবে তা অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হবে।’’

ফলে পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনায় অনেকেই বন দফতরের গাফিলতি দেখতে পাচ্ছেন৷ কারণ, পশ্চিম মেদিনীপুরে এখন শিকার উৎসব চলছে৷ তাই এই সময় জঙ্গলে শিকার করতে যান আদিবাসীরা৷ ফলে সেই উৎসবের মাঝেই যদি দলবদ্ধভাবে হত্যা করা হয়, তাহলে বন দফতরের কাছে কেন কোনও খবর ছিল না, সেই প্রশ্নও উঠছে৷

তাই বৈভব ঠাকুর বলছেন, ‘‘আমরা রাজ্য বনদপ্তরকে দুদিন সময় দিয়েছি।তার মধ্যে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আমরা চাই।প্রয়োজনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে দেখবো।’’

একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, বাঘের খবর বন দফতর পেল না৷ অথচ মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাছে খবর চলে গেল? এটা কী করে হয়? তাহলে বাঘের মৃত্যুর খবর কে খবর দিল?

যদিও রাজ্যের বন সচিব চন্দন সিনহা বলছেন, ‘‘লালগড়ের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে।বাঘটির দেহের ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর কারন সুনিশ্চিত করা হবে।তবে এই মুহূর্তেই সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বনাধিকারিকদের শাস্তির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’’