স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: জঙ্গলের বুক চিরে মোরাম রাস্তা ধরে ওরা প্রতিদিন স্কুলে যায়, এবার সেই পথ ধরে মাধ্যমিক দিতে যাচ্ছে ওরাই। কিন্তু ঐ জঙ্গলেই ঘাঁটি গেড়ে বসেছে দলমার দাতালরা।

রাজ্যের অন্যান্য অংশের সঙ্গে বাঁকুড়ার বড়জোড়া, বেলিয়াতোড়, সোনামুখী, গঙ্গাজলঘাটির জঙ্গল এলাকার অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে। জীবনের প্রথম এই বড় পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের কাছে ‘দলমার দামাল’রা যাতে কোন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তারই উদ্যোগ নিল বনদফতর৷

পরীক্ষার দিন গুলিতে বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের বেলিয়াতোড় রেঞ্জের সাওলিয়া, বৃন্দাবনপুর জঙ্গল লাগোয়া পথে পরীক্ষার্থীদের ভরসা যোগাতে টহল দিল বন দফতরের বিশেষ গাড়ি ‘ঐরাবত’। সঙ্গে হাতি তাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত বিশেষ প্রশিক্ষিত হুলাপার্টিও।

বেশ কিছু দিন ধরে জেলার উত্তরের বেলিয়াতোড়, গঙ্গাজলঘাঁটি এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েকটি হাতির দল। মাঝে মধ্যে জঙ্গলের মধ্যে অবাধ বিচরণের পাশাপাশি হানা দিচ্ছে লোকালয়েও। এই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে বনদফতরের এই নজরদারির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক সকলেই।

বনদফতর সূত্রে খবর, গঙ্গাজলঘাঁটি, বড়জোড়া, সংগ্রামপুর, বেলিয়াতোড়, বৃন্দাবনপুর এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বেশ কিছু হাতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে আটটি মোবাইল মোবাইল ভ্যান কাজ করছে। প্রতিটি মোবাইল ভ্যানে প্রশিক্ষিত বনকর্মীরা তো রয়েছেন, পাশাপাশি হুলাপার্টির সদস্যরাও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে দেখা গেল, বেলিয়াতোড় এলাকার জঙ্গল পথে হুলাপার্টির টহলদারির মধ্য দিয়ে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রের পথে চলেছেন। সঙ্গে অভিভাবকরাও।

রাহুল দে নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, এই জঙ্গলে কয়েক দিন ধরেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েকটি হাতি। আমাদের সুরক্ষায় বনদফতর যেভাবে কাজ করছে তাতে হাতির ভয় আমাদের অনেকটাই কেটে গেছে।

অভিভাবক হারাধন দে-ও খুশি বনদফতরের এই ভূমিকায়। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় হাতির উপদ্রব নিত্য দিনের ঘটনা। তার মধ্যে দীর্ঘ এই জঙ্গল পথে বনদফতর যেভাবে ছাত্র ছাত্রীদের সুরক্ষার কথা ভেবে নজরদারির ব্যবস্থা করেছেন তা প্রশংসার যোগ্য।

টহলদারির কাজে নিযুক্ত হুলাপার্টির সদস্য সমর মহন্ত বলেন, কোন পরীক্ষার্থীই যাতে বিপদে না পড়ে তার নির্দেশ রয়েছে৷ আর সেই কাজটাই আমরা করছি।

এই এলাকায় বেশ কয়েকটি হাতি ঘাঁটি গেড়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার দিন গুলিতে আমরা এই কাজে নিযুক্ত থাকব। পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে শুরু করে জঙ্গল পথে বেরিয়ে বাড়ি পর্যন্ত সব পরীক্ষার্থীর সুরক্ষার কাজে তারা সদা সচেষ্ট বলেও তিনি জানান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.