নয়াদিল্লি: অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন দেশের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর৷ দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার উপস্থিতিতে সংসদ ভবনে জয়শঙ্কর বিজেপিতে যোগ দেন৷ আদতে কূটনীতিক এই ব্যক্তিত্ব ১৯৭৭ সালের আইএফএস ব্যাচের অফিসার৷ এর আগে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন বিদেশ সচিব হিসেবে৷

২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় এসে মোদী সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্যতম চমক ছিল এস জয়শঙ্করের মন্ত্রীত্ব৷ তাঁকে বিদেশ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন কূটনীতিক জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেই রাষ্ট্রপতি ভবেন শপথ নেন তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে হবে জয়শঙ্করকে৷ কারণ তিনি প্রথাগত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে যাননি৷ আগামি ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে সংসদের যে কোমও কক্ষে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে শপথ নিতে হবে৷

আরও পড়ুন : কাটমানি নয়, মুখ্যমন্ত্রী ‘তৃণমূল তোলাবাজি ট্যাক্স ‘ ফেরত দিচ্ছেন: জয়প্রকাশ

বিজেপি সূত্রে খবর এস জয়শঙ্করকে গুজরাত থেকে রাজ্যসভার প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানো হবে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘনিষ্ঠ এই কূটনীতিক বিদেশ মন্ত্রকে বরাবরই ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত ছিলেন৷ ২০১৫ সালে থেকে বিদেশ সচিবের দায়িত্ব সামলে আসছিলেন তিনি৷ মোদী সরকারের প্রথম দফায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর ভূমিকা৷ ২০১৮ সালে পদত্যাগ করেন জয়শঙ্কর৷

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হন জয়শঙ্কর৷ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সুজাতা সিংকে সরিয়ে তাঁকে বিদেশ সচিব পদে বসানো হয়৷ গত চার দশকে তিনিই সবথেকে বেশি সময় ধরে বিদেশ সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন। একসময় চিনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি। লাদাখে অনুপ্রবেশ রুখতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। ডোকলাম সংঘাত এর সময়েও গুরুদায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনিই।

আরও পড়ুন : মোদীকে ‘গন্ধি নালি’র সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কে অধীর

চাকরির প্রথম দিকে রাশিয়ায় ছিলেন জয়শঙ্কর। এরপর টোকিও সহ ইউরোপের একাধিক রাজধানী শহরে কাজ করেছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার ভারতীয় পিস কিপিং ফোর্সের পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার ও সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ২০১৮ তে সরকারি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে তিনি টাটা গ্রুপের গ্লোবাল করপোরেট আফেয়ার্সের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। উল্লেখ্য এবার মন্ত্রিসভায় যে সুষমা স্বরাজ থাকবেন না, তা আগেই জানা গিয়েছিল৷ সেই জায়গাতেই নিয়ে আসা হয় জয়শঙ্করকে৷

উল্লেখ্য, আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তির সময় ২০০৫ সালে ভারতের যে টিম কাজ করেছিল তার অন্যতম সদস্য ছিলেন জয়শঙ্কর। দু বছর পর ২০০৭ সালে মনমোহন সিংয়ের জমানায় সেই চুক্তি সম্পন্ন হয়। ১৯৭৭ ব্যাচের অফিসার তিনি। ২০১৩ তে তাঁকেই বিদেশসচিব হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিল মনমোহন সিংয়ের। কিন্তু অন্যান্য নেতাদের পরামর্শে সিনিয়র হিসেবে সুজাতা সিং কেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।