স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: আউশগ্রামের পর এবার বর্ধমান শহরে দাবি মতো চাঁদা না দেওয়ায় বেধড়ক মারধর করা হল এক গাড়ি চালককে। ভাঙচুরও করা হল গাড়িতে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় গাড়ি রেখে পথ অবরোধ করলেন চালকরা।

শুক্রবার সকালে এই ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ বর্ধমান-আরামবাগ রোডের তেলিপুকুরে অবরোধ হওয়ায় চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। বাস, লরি-সহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে। যানজটের জেরে তেলিপুকুরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের অ্যাপ্রোচ রোডও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে কলকাতাগামী সরকারি বাস ও স্কুল বাসগুলিও আটকে পড়ে।

আরও পড়ুন: কালীপুজোয় কড়া হাতে শব্দদানব রুখতে পুলিশ

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এদিন সকালে তেলিপুকুরে একদল যুবক একটি গাড়িকে আটকে চালকের কাছে ৫০০ টাকা কালীপুজোর চাঁদা দাবি করে৷ ওই চালক ৫০ টাকা দিলে চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয় ও গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন অন্যান্য বাস ও লরির চালকরা। তাঁরাই জখম চালককে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এরপর বাস ও লরির চালকরা গাড়িটিকে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে করিয়ে রেখে অবরোধ শুরু করেন। প্রথমে বর্ধমান থানার পুলিশ গেলেও অবরোধকারীরা অবরোধ তুলতে রাজি হননি। শেষে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে অবরোধকারী চালকদের বুঝিয়ে অবরোধ তোলে।

আরও পড়ুন: শনিবারের রাশিচক্রে কী আছে আপনার ভাগ্যে

উল্লেখ্য, সপ্তাহ খানেক আগে দাবি মতো কালীপুজোর চাঁদা না দেওয়ায় আউশগ্রামের গুসকরা-অভিরামপুর রোডে লরি চালকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। জেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশাপাশি চাঁদার জুলুম থেকে রেহাই নেই জাতীয় সড়কেও।

বর্ধমান-বোলপুর ২বি জাতীয় সড়কের তালিত রেলগেটের কাছেও একদল যুবক প্রতিদিন লাঠি হাতে গাড়ি থামিয়ে চাঁদার জুলুমবাজি করছে বলে অভিযোগ। বেপরোয়া চাঁদার জুলুমবাজি আটকাতে পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় নয় বলে অভিযোগ বাসিন্দা থেকে চালক সকলেরই।

আরও পড়ুন: তেলেঙ্গানায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই বিক্ষোভ শুরু বিজেপি কর্মীদের

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ৷ তাদের দাবি, নজরদারি চলছে৷ কাউকে চাঁদার জন্য জুলুমবাজি করতে দেখা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ কোনও অভিযোগ এলে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ তার মধ্যে পুলিশের নজর এড়িয়ে কয়েকটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: বাঙালি হত্যার প্রতিবাদে অসম অভিযান টিম মমতার