ভোপাল: ১৯৯৯ সালে সলমন খান, ঐশ্বর্য রায় এবং অজয় দেবগন অভিনীত ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ এর কথা আশা করি সবারই মনে আছে! আর মনে না থাকলে আরেকবার জেনে নিন। ১৯৯৯ সালের বলিউডের মেগা হিট এই ছবিতে দেখা গিয়েছিল নায়িকা ঐশ্বর্য ভালোবাসে সলমন খানকে। কিন্তু নায়িকার নাছোড় বাবা মেয়ের বিয়ে দেবে ছবির আরেক নায়ক অজয় দেবগনের সঙ্গে। বাবার ইচ্ছায় সেই বিয়েও হয়েছিল। কিন্তু পরে যখন অজয় জানতে পারে ঐশ্বর্য ভালোবাসে সলমনকে তখনই সে ঠিক করে নিয়েছিল তাঁদের দুজনকে আবার মিলিয়ে দেবেন। কিন্তু ছবি যত এগিয়েছে ততই দর্শক দেখেছে নায়িকা ঐশ্বর্য ধীরে ধীরে ভালোবেসে ফেলেছে তাঁর স্বামী অজয়কে। ফলে ১৯৯৯ এর ব্লকবাস্টার ছবির সমাপ্তি ঘটে এখানেই।

কিন্তু মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের ক্ষেত্রে ঘটনার শুরুটা একই রকম হলেও শেষ দৃশ্য একেবারে আলাদা। বর্তমান যুগে যখন চারিদিকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় হুহু করে ডিভোর্সের মামলা বাড়ছে তখন প্রেমিকের সঙ্গে নিজের স্ত্রীর বিয়ে দিয়ে ভোপালের ‘হিরো’ হলেন একব্যক্তি। ভোপালের কোলার অঞ্চলের বাসিন্দা মহেশ(নাম পরিবর্তিত) নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। গত সাত বছর আগে পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার সঙ্গীতার(নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। বর্তমানে তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। সাত বছরের সংসার জীবনে মহেশের সঙ্গে সঙ্গীতা সুখী থাকলেও তাঁর মন পড়েছিল আগের প্রেমিকের কাছে।

জানা গিয়েছে, সঙ্গীতার সঙ্গে তাঁর প্রেমিকের সম্পর্কের কথা মানতে পারেননি সঙ্গীতার বাড়ির লোকজন। ফলে বাবার পছন্দ করা পাত্রের সঙ্গে সেদিন বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু মহেশের সঙ্গে তাঁদের বিবাহিত জীবনের সাত বছর পার করলেও সঙ্গীতার মন পড়েছিল তাঁর পুরনো প্রেমিকের কাছেই। এদিকে সেই ব্যর্থ প্রেমিক এখনও অপেক্ষায় রয়েছে প্রেমিকা সঙ্গীতার। আরও জানা গিয়েছে, সঙ্গীতা ছাড়া আর অন্য কাউকেই এত বছরেও মন দিতে পারেনি সেই ব্যর্থ প্রেমিক। ফলে সে এখনও অবিবাহিত রয়েছে। কিছুদিন আগেই এক সূত্র মারফত আগের প্রেমিকের এই অবস্থার কথা জানতে পারে সঙ্গীতা। আর তারপর থেকেই সঙ্গীতা সিদ্ধান্ত নেয় তাঁর পুরনো প্রেমিকের কাছে ফিরে যাবে। এবং তাঁর সঙ্গেই দ্বিতীয়বার ঘর বাঁধার কথাও মহেশকে জানায় সে।

দুই সন্তান থাকায় স্ত্রীকে অনেক বোঝানোর পরেও কোনও ফল লাভ হয়নি নাছোড়বান্দা সঙ্গীতা ঠিক করেই ফেলেছিল সে এবার তাঁর পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধবে। ফলে বিষয়টি শেষপর্যন্ত পারিবারিক আদালত পর্যন্ত গড়ায়। স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের আর্জি জানায় মহেশ। কিন্তু দুই সন্তানকে নিজের কাছে রাখার দাবী জানায় মহেশ। কারণ এই বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সন্তানদের উপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক সেটা বাবা হিসাবে কখনই চান না মহেশ।
তাঁদের কাউন্সিলর সাহিল আস্থি একটি সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ডিভোর্স সংক্রান্ত একটি মামলা জমা পড়েছে। দু-পক্ষের মতামত নিয়ে আগামী দিনে এর শুনানি হবে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও