কলকাতা: হ্যান্ডশেকিং দূরত্ব থেকে গত মরশুমে হাতছাড়া হয়েছিল আই লিগ ট্রফিটা। তবে ডার্বি জয়ের পরিসংখ্যানে ১০০ শতাংশ জয়ের রেকর্ড নিয়েই কলকাতায় তাঁর প্রথম মরশুম শেষ করেছিলেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজ গার্সিয়া। দেড় দশক পর ইস্টবেঙ্গলকে আই লিগের জোড়া ডার্বি জিতিয়ে রাতারাতি নায়ক বনে গিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ যুব দলের প্রাক্তন কোচ।

রবিবার ফের বাঙালির চিরন্তন আবেগের ডার্বি। ইলিশ-চিংড়িতে দু’ভাগ বাংলা। তবে চলতি মরশুমের প্রথম বড় ম্যাচ আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে অন্য একটি কারণে। কারণটা অবশ্যই দুই প্রধানের দুই স্প্যানিশ কোচ। ময়দান প্রথমবার সাক্ষী থাকতে চলেছে দুই স্প্যানিশ কোচের মগজের লড়াইয়ের। তবে ডার্বির উন্মাদনা গায়ে মেখে ১০০ শতাংশ জয়ের রেকর্ড নিয়ে রবিবার কিছুটা এগিয়ে থেকেই শুরু করবেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো গার্সিয়া। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

অন্যদিকে মোহনবাগান কোচের হটসিটে স্প্যানিয়ার্ড কিবু ভিকুনা ইন্টারনেট মারফৎ ডার্বি সম্পর্কে খোঁজখবর নিলেও ময়দানে একেবারেই আনকোরা। তবে বাগান কোচের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মগজাস্ত্রের লড়াইয়ের আগে অতীত পরিসংখ্যান ঘেঁটে নিজেকে কোনওভাবেই এগিয়ে রাখার পক্ষপাতী নন ইস্টবেঙ্গল কোচ। বরং সাইয়ের মাঠে ক্লোজ ডোর অনুশীলনে স্বদেশী ভিকুনার দলের বিরুদ্ধে স্ট্র্যাটেজি সাজাতে ব্যস্ত গার্সিয়া। কর্নার-ফ্রি কিক কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে জেনে বড় ম্যাচের আগে তিনি জোর দিচ্ছেন সেট পিসে। বড় ম্যাচে জয়ের হ্যাটট্রিকের জন্য ফর্মে থাকা হাইমে কোলাডো, বিদ্যাসাগরের দিকেই তাকিয়ে লাল-হলুদ কোচ।

পাশাপাশি বাঙালির আবেগের ডার্বিতে দু’দলে স্প্যানিশ ফুটবলারদের ভিড়ে বাগান কোচ ভিকুনাও তাকিয়ে মাঝমাঠে জোসেবা বেইতিয়া কিংবা আপফ্রন্টে সালভা চামোরোর দিকে। ডার্বিতে বিপক্ষ কোচের অল-উইন রেকর্ড থাকলেও অঙ্ক কষেই তা ভাঙতে চান কিবু। ম্যাচের সময় নিয়ে দুই কোচের যথেষ্ট মাথাব্যথা রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছেন না কেউই।

অন্যদিকে ৩৬৮তম কলকাতা ডার্বির টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছে শুক্রবারই। সোশ্যাল মিডিয়াও কাবু ডার্বি জ্বরে। রবিবারের ম্যাচ জিতলেই যা লিগ নিশ্চিত নয় তা জেনেও দু’পক্ষই মুখিয়ে সম্মানের লড়াই জিততে। আলেজান্দ্রোর পাশাপাশি কলকাতা ডার্বির পরিসংখ্যানে চোখ বোলালেও সেখানে কিছুটা এগিয়ে ইস্টবেঙ্গলই। লাল-হলুদ যেখানে ১২৯ বার জয় পেয়েছে সেখানে মোহনবাগান জিতেছে ১১৮টি ম্যাচ। ড্র ১২০টি ম্যাচ।