কলকাতা : শীতলকুচি -কাণ্ডে তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করল সিআইডি। তদন্তের শুরুতেই মাথাভাঙা থানার তদন্তকারী অফিসারকে তলব করেছে তারা। ওই অফিসার শীতলকুচি-কাণ্ডের তদন্ত করছিলেন। সিট -র শীর্ষ দায়িত্বে রয়েছেন ডিআইজি-সিআইডি কল্যাণ মুখোপাধ্যায়।

শীতলকুচির ঘটনার পরে তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডি-র হাতে। ডিআইজি সিআইডি কল্যাণ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে সিআইডি। সেই বিশেষ দল মাথাভাঙা থানার তদন্তকারী অফিসারকে ভবানীভবনে তলব করেছে। এ ছাড়া মাথাভাঙা থানার অফিসার ইনচার্জকেও তলব করা হতে পারে বলে সিআইডি সূত্রে খবর।

গত ১০ এপ্রিল, চতুর্থ দফার ভোটের দিন সকাল থেকে কোচবিহারের শীতলকুচিতে তৃণমূল ও বিজেপির লোকেদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল। সেই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারায় আনন্দ বর্মণ নামে ১৮ বছরের এক রাজবংশী যুবক। তিনি ছিলেন প্রথম ভোটার । তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরপর এলাকায় গণ্ডগোল আরও বাড়লে পরিস্থিতি সামলাতে অতিরিক্ত বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। এই একই দিনে শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় হামিদুল, শামিমুল, মইদুল, নূর আলম নামে স্থানীয় চার যুবকের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি ছিল, স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উপর চড়াও হয়ে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে । এই প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ করে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে উস্কানিতেই বাহিনীর উপরে হামলা করার সাহস দেখিয়েছে গ্রামবাসী। তাই পরোক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপরেই ঘটনার দায় বর্তায় বলে বিজেপি দাবি করে ।

অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার যুবককে গুলি করেছে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনী। চাইলে কোমরের নীচে গুলি করতে পারত তারা। বুক লক্ষ্য করে গুলির প্রয়োজন ছিল কী? এই প্রেক্ষিতে আবার বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর পুরনো একটি বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। জনসভায় সেই ভিডিও-র ক্লিপিং দেখিয়ে যুব তৃণমূলের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ করেছিলেন , “ছয় মাস আগেই বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু তাঁর ভাষণে বলেছিলেন সিআরপিএফকে বলেছি বেশি বাড়াবাড়ি করলে বুক লক্ষ করে গুলি করুন। আর শীতলকুচির ঘটনার পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলছেন বেশি বাড়াবাড়ি করলে এই ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে। এই দু’টি কথাই ইঙ্গিত দেয় শীতলকুচির ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত।” এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শীতলকুচি যাবেন বলে ঘোষণা করার কিছুক্ষণ পর নির্বাচন কমিশন শীতলকুচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের শীতলকুচি যাওয়া ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেয় । তবে ৭২ ঘণ্টা পার হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শীতলকুচিতে যান এবং ৫ নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিআইডি তদন্তের কথা জানান। সেই তদন্তে এবার সিট গঠিত হল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার নবান্নে বলেন, “শীতলকুচির ঘটনায় সিট গঠন করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারের একজন করে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত হয়ে গেলে এই বিষয়ে আমি জানাবো।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.