মালদহ: পূর্ব পুরুষের শান্তি কামনায় গয়ায় গিয়ে ‘পিণ্ড’ দানের প্রথা প্রায় সকলেরই জানা৷ কিন্তু জানেন কি মহিলাদের পিণ্ড দানের দেশের একমাত্র ব্যবস্থা রয়েছে কোথায়? প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ে গয়েশ্বরী মন্দিরে রয়েছে এই ব্যবস্থা৷ কথিত আছে এখানেই নাকি মাতৃ পিণ্ড দান করেছিলেন দেবী সীতাও। পাঁচশো বছরেরও বেশী সময় ধরে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য দেবের আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে রামকেলী মেলা শুরু হয় এখানে৷ একই সঙ্গে চলে মাতৃ পিণ্ড দান পর্ব৷

মালদহের রামকেলী বিখ্যাত বৈষ্ণব তীর্থ হিসেবে৷ অনেকে একে বলেন গুপ্ত বৃন্দাবন৷ চৈতন্য চরিতামৃতেও এর উল্লেখ্য রয়েছে৷ হুসেন শাহের শাসন কালে গৌড়ে পদার্পণ করেছিলেন চৈতন্যদেব৷ গৌড়ের রাজ্যের দুই মন্ত্রী রূপ ও সনাতন গোস্বামীর সঙ্গে মিলিত হয়ে তাঁদের দীক্ষিত করেন মহাপ্রভু৷ গৌড়ে যে তমাল গাছের তলায় চৈতন্য দেব দীক্ষাদান করেন তাঁকে সংরক্ষণ করেছে রাজ্য সরকার৷ এখানে সংরক্ষিত রয়েছে মহাপ্রভুর পদচিহ্নও৷ রাজ্য পর্যটন দফতরের উদ্যোগে এখানে বসানো হয়েছে মহাপ্রভুর পূর্ণাবয়ব মূর্তিও৷ তাঁর আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী রামকেলী মেলা এবার ৫০৩ বছরে পড়ল৷ এবারও এখানে ভিড় করেছেন লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষ। রামকেলী মেলা আর মহিলাদের পিণ্ড দান নিয়ে এখানে প্রচলিত রয়েছে নানা কাহিনী।

গত বৃহস্পতিবার থেকে গৌড়ে শুরু হয়েছে রামকেলী মেলা ও মাতৃ পিণ্ড দান৷ প্রথা অনুযায়ী পিণ্ড দান পর্ব চলবে প্রথম তিনদিন৷ আর মেলা চলবে সপ্তাহ ব্যাপী। এরাজ্য তো বটেই দেশের বিভিন্ন রাজ্য এমনকি প্রতিবেশী দেশ থেকেও হিন্দু ধর্মাম্বলম্বী মহিলারা আসেন এখানে মাতৃ পিণ্ড দান করতে৷ রামকেলী মেলাকে ঘিরে এবার লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়েছে গৌড়ে৷ রাস্তা থেকে আমবাগান গৌটা গ্রাম জুড়েই তিল ধারণের জায়গা নেই। সর্বত্রই প্রচুর আখড়া সাধু সন্তদের ভিড়। ঘাটি গেড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা বৈষ্ণবীরা। দিনরাত্রি সব সময় চলছে কীর্তন,বাউল, নানা লোকগান। সারা বছর অপেক্ষায় থেকে রামকেলী মেলায় এসে হৃদয় জুড়িয়ে যায় বলে জানিয়েছেন বৈষ্ণবীরা৷

শুধু মেলায় নয় গোটা গ্রাম জুড়েই যেন উৎসবের মেজাজ। হরেক রকম খাবার আর পুজোর সরঞ্জাম খোল করতাল ধর্মগন্থের দেদার কেনাবেচা। মেলায় গোলমাল ঠেকাতে মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক শো পুলিশ৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.