ফাইল ছবি

গান্ধীনগর: রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৯.৫ শতাংশ মুসলিম৷ অথচ তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাত থেকে কোনও মুসলিম প্রার্থী লোকসভা ভোটে জিতে সাংসদ হননি৷ শেষ সাংসদ হয়েছিলেন আহমেদ প্যাটেল৷ সালটা ছিল ১৯৮৪৷

তার পাঁচ বছর পর ১৯৮৯ সালে তিনি বারুচ কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী চাঁদু দেশমুখের কাছে ১ লক্ষ ১৫ হাজার ভোটে হেরে যান৷ কংগ্রেসের আহমেদ প্যাটেলই ছিলেন গুজরাত থেকে নির্বাচিত শেষ মুসলিম সাংসদ৷

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, ১৯৬২ সালে সদ্য গঠিত গুজরাতে প্রথম লোকসভা ভোটে একজন মাত্র মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন৷ তিনি ছিলেন জোহারা ছাবড়া৷ মাঝের ১৫ বছর সংসদের নিম্নকক্ষে গুজরাত থেকে আর কোনও মুসলিমকে সাংসদ দেখা যায়নি৷ ফাঁড়া কাটল ১৯৭৭ সালে৷ ওই বছর দুইজন মুসলিম সাংসদ পেল গুজরাত৷ দুইজন হলেন কংগ্রেস নেতা আহমেদ প্যাটেল ও এহসান জাফরি৷ প্যাটেল বারুচ কেন্দ্র থেকে জয়ী হন৷ আর জাফরি জেতেন আমেদাবাদ কেন্দ্র থেকে৷

গুজরাতের বারুচ কেন্দ্রটি মুসলিম অধ্যুষিত৷ এই কেন্দ্রের ১৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ভোটারের মধ্যে ২২.২ শতাংশ মুসলিম৷ কংগ্রেস বারুচ কেন্দ্রে আটজন মুসলিমকে টিকিট দিয়েছিল৷ একমাত্র আহমেদ প্যাটেলই এই কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন৷ এবং একবার নন৷ ১৯৭৭ এরপর ১৯৮২ ও ১৯৮৪ সাল- পরপর তিনবার জয়ের ধারা বজায় রাখেন৷

অথচ সেই আহমেদ প্যাটেল ১৯৮৯ সালে এই বারুচ কেন্দ্র থেকে এক হিন্দু প্রার্থীর কাছে হেরে যান৷ তারপর থেকে মুসলিম প্রার্থীদের শনির দশা শুরু৷ বিগত ৩০ বছরে কোনও মুসলিমই গুজরাত থেকে জিতে আর সাংসদ হতে পারেননি৷

এর পিছনে একটি ব্যাখ্যা উঠে এসেছে৷ সমাজকর্মীদের মতে, গুজরাতে মুসলিমদের কার্যত অপ্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে৷ সেটা সামাজিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই৷ ২০০২ সালের গোধরা কাণ্ডের পর তা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে৷ তাই তো মুসলিমদের প্রার্থী করা হলেও কেউ ভোটে জিততে পারেন না৷ আর রাজনৈতিক দলগুলিও বেশি সংখ্যক মুসলিমকে প্রার্থী করায় উৎসাহ দেখান না৷

যেমন গত লোকসভা নির্বাচনে গুজরাতে মোট ৩৩৪ জন প্রার্থী হয়েছিল৷ তার মধ্যে মাত্র ৬৭ জন ছিল মুসলিম প্রার্থী৷ আর সেই বছর কংগ্রেস মাত্র একজন মুসলিমকে টিকিট দিয়েছিল৷ তিনি ছিলেন মাকসুদ মির্জা৷ কংগ্রেসের বক্তব্য, মুসলিমরা জিততে পারেন না বলে তাদের ভোটে টিকিট দেওয়া হয় না৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.